পরকীয়া



পরকীয়া খুব ভালো জিনিস । সেই শ্রীকৃষ্ণ থেকে শুরু করে হালের নগর আধিকারিক কেউই এর দাপট থেকে বাঁচতে পারেননি । পরকীয়া বৈবাহিক  জীবনের একঘেয়েমি দূর করে । মনে নতুন উত্তেজনা আনে , শরীরে ডোপামিন বাড়ে , ত্বকে চিকনভাব , মনে চিকেনভাব বাড়ে । নিজের প্রতি যত্ন বাড়ে কারন অন্যের কাছে নিজেকে প্রেজেন্টেবল করে তুলতে হয় । বাকচাতুর্যে শান দেওয়া হয় নিজের বুদ্ধিজীবী ইমেজ গড়ে তুলতে । পাঁচশো নিরানব্বই টাকায় তিনমাস অফুরন্ত ফোন ও রোজ দেড়জিবি নেটপ্যাক পুরোটা উসুল হয় । জামাকাপড় , গয়নাগাটি বিক্রেতা ও রেস্তোরাঁ মালিকদের পোয়াবারো হয় । একরাত দুদিন দীঘা , ডায়মন্ডহারবার ট্যুরিজম সাফল্যের চুড়োয় ওঠে । পাড়ার মহিলারা কিটি পার্টিতে ও বরেরা মান্থলি ক্লোজিঙের বিয়ার আড্ডায় আলোচনার নতুন বিষয় পান । কবি আরো বেশি কবিতা ও লেখক চ্যাটচেটে উপন্যাস লেখেন । উপহার শিল্প বিস্তার লাভ করে । মানুষ ভুঁড়ি কমাতে জিম জয়েন করে ।পরকীয়া কালে মানুষ নিজের দাঁতমাজা থেকে শুরু করে হাইতোলা পর্যন্ত সারাদিনে সাতশো একানব্ব‌ই টি সেলফি তোলে ও প্রতিটি চৌত্রিশ বার এডিট , ফিল্টার ও ফটোশপ করে দেওয়ালে ঘুঁটে মারে । সারাদিন মুচকি মুচকি হাসে , বসকে গাল দেওয়া ভুলে যায় , সন্তানের খারাপ রেজাল্ট ইগনোর করে তাকে " যা বেটা , জি লে আপনি জিন্দগি" বলে । মিডিয়া নতুন বিষয় পায় , পরিচালক প্লট , গড় মানুষ ফুটেজ পায় , কেচ্ছায় ভরে ঘট। ধরা পড়লে জীবনসঙ্গী আরো আঁকড়ে ধ‍রে বা লাথ মারে , একটা হেস্তনেস্ত হয়ে যায় । বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য ও আত্মহত্যার কারন পাওয়া যায় ।এককথায় পরকীয়া খুব খুব ভালো জিনিস,প্রায় বিটকয়েন কেনা বা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হ‌ওয়ার মতন দুর্দান্ত জিনিস । প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দেশের সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি বাড়াতে একাধিক পরকীয়া করা উচিত । এর পরোক্ষ প্রভাব জিডিপিতে পরে ।

তবে ..., হ্যাঁ একটা তবে আছে । পরকীয়া করলে আরাম নেই । না না নবাব কিনলে আরাম ফ্রির আরাম নয় ,  প্রানের আরাম , মনের আরাম । সবসময় তটস্হ হয়ে থাকতে হয় , কেউ জেনে ফেললো না তো ? কেউ দেখে ফেললো না তো ?এসব তো আছেই । এছাড়া প্রাত্যহিক জীবনের তুচ্ছ তুচ্ছ আরাম । ব‌উ বা বরের সামনে আপনাকে দম আটকে ভুঁড়ি কমিয়ে রাখতে হয় না , প্রেমিক বা প্রেমিকার সামনে হয় । ভাত খেয়ে লুঙ্গি বা নাইটি হাফ ভাঁজ করে থালাইভা স্টাইলে গুটিয়ে ভুঁড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে পান গালে পুরে পরকীয়া হয় না । ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে চা খাওয়া , খক্কর খক্কর করে বেসিনে মুখ ধোয়ার সময় গলার বাইল তোলা , বিছানায় বসে বাতকর্ম , মাংস খেয়ে খড়কে কাঠি দিয়ে দাত খোঁচানো পরকীয়ার সাথে যায়না । মাংসের হাড় চুষে সুড়ুৎ বার করা বা সজনে চিবিয়ে ছিবড়ের পাহাড় বানানো যাবে না প্রেমিক বা প্রেমিকার সামনে । বাথরুম থেকে " ওগো আমার আমাশা হয়েছে গো , মেট্রোজিল বার করো " বলা যায় না । হরর মুভি দেখে শোওয়ার পর রাতে বাথরুমে যেতে হলে " ওগো , ওঠোনা , আমি বাথরুমে যাচ্ছি , তুমি একটু জোরে জোরে গান গাওনা " বলা যায় না । মাসের শেষে ধার চাওয়া যায় না । ফোন বা মেসেজ দেখেও ইগনোর করা যায় না । বুদ্ধিজীবী সেজে মাথার উপর দিয়ে যাওয়া খটোমটো কোরিয়ান বা রাশিয়ান সিনেমা দেখতে হয় , নেরুদা , দেরিদা নবারুণ কোট করতে হয় । প্রতিদিন সাড়ে বারোবার দাঁত মাজতে হয় , মাসে দুটো ফেসিয়াল , প্রতি সপ্তাহে চুল , গোঁফ রঙ করতে হয় , টাক ঢাকতে হয়, সর্বদা জিনস পরে কোমরে দাগ পড়ে যায় । সাবান মেখে প্রতিদিন লুফা দিয়ে দুবার গায়ের ছাল তুলে গা ঘষতে হয় । ফোনে ভয়ংকর জটিল পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখতে হয় যা নিজেই প্রতি সাতদিনের দিন ভুলে যেতে হয় । পরিচিত কারোর সাথে সপ্রেম রাস্তায় দেখা হলে ," এ আমার কেউ নয় / মাসতুতো বোন / দাদা হয় " উত্তর দিতে হয় । খরচের ঠেলায় সঞ্চয় দূর অস্ত , ধার করতে হয় । সাড়ে তেইশ মিনিট অন্তর ঝগড়া ও প্রতি আড়াই ঘন্টা পর অভিমান ভাঙাতে হয় । ইয়ে করার সময় কর্তা বা গিন্নির নাম যাতে ভুল করে মুখে না আসে সে বিষয়ে সদা সচেতন থাকতে হয় । মোদ্দা কথা এ হল ভীষ্মের শরশয্যা , শুতে পারো কিন্তু ঐ , কাঁটার উপর। তাই সুধী , যদি আরাম চান , পরকীয়া ভুলুন , নিজের সাতপুরনো বর বা বউকে কাছে টেনে নিন । দুপুরে ইলিশ ভাঁপা অথবা রাতে ইটিং আউট নিশ্চিত । নিজের বর/ব‌উকে ভালোবাসুন , সুখে নয় , স্বস্তিতে থাকুন ।

রাকেশ ঘোষাল

Comments