বাস্তব অথচ স্বপ্ন
সন্ধেবেলায় ভীষণ ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে! মেয়েটা ছেলেটার সাথে নদীর পাড়ে বসে আছে কাঁধে মাথা রেখে...
দুই পরিবার থেকে ওঁদের বিয়ে কিছুতেই মেনে নেবে না, কতদিন আর দেখা করতে পারবে লুকিয়ে লুকিয়ে একে অপরের সাথে, ওঁরা দুজনেই জানে না....
হঠাৎ ছেলেটা মেয়েটির ক্লান্ত মুখটা নিজের আলতো হাতে তুলে ধরে একটা গান গাইলো, "কি করিলে বলো পাইবো তোমাকে, রাখিবো আঁখিতে আঁখিতে"....
মেয়েটা গানটা শোনা মাত্রই চোখ বন্ধ করে ফেললো, মেয়েটার দুই চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে....
মেয়েটা চোখ বন্ধ করে একটা সুন্দর সাজানো গোছানো সংসারের স্বপ্ন বুনতে শুরু করলো....
যে সংসারের ভেতর একটা গোটা পৃথিবী থাকবে, যে সংসারের ভেতর দুটো মানুষ রাতের বেলায় একে অপরের কোলে মাথা রেখে সারাদিনের গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়বে....
আবার সকালে উঠেই দুজনে তাড়াতাড়ি করে রান্না বসাবে, একজন বাসনগুলো ধুয়ে দেবে, একজন ঘরটা তাড়াতাড়ি মুছে নেবে। একজন মশলা বেটে দেবে, একজন খুন্তি নাড়বে....
একজন জামাকাপড় গুলো মেলে আসবে ছাদে, আর একজন অফিসে যাওয়ার টিফিন বক্স গুলো গুছিয়ে নেবে...
অফিসে কাজ করতে করতে একজন আর একজনকে মেসেজ করে বলবে "লাঞ্চ করলি? আজকে বাড়ি যাওয়ার পথে মাসকাবারি বাজার করে নিয়ে যাবো বুঝলি।"...
বিকেল বেলায় একটা বাসে করেই দুজনে পাশাপাশি বসে বাড়ি ফিরবে। কোথাও মাঠে মেলা বসলে নাগরদোলায় উঠবে, রাত করে বাড়ি ফিরবে, আর তারপর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকবে মাদুর বিছিয়ে ছাদের উপর.....
হঠাৎ মেয়েটা সংসারের স্বপ্ন বুনতে বুনতে চোখ খুলে ফেললো, ছেলেটাকে আঁকড়ে ধরলো...
ছেলেটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েটার মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরলো, মেয়েটা ধীরে ধীরে শান্ত হলো, ঠান্ডা হাওয়া দেওয়া বন্ধ হলো....
চোখ টোখ মুছে মেয়েটা টিফিন বাক্সটা ব্যাগ থেকে বার করে ছেলেটার হাতে দিলো, ছেলেটার গাল টিপে বললো,
"শুভ জন্মদিন"....
ছেলেটা টিফিন বাক্সটা খুলে দেখলো, পায়েস আর লুচি রাখা আছে তাতে....
দুজনেই দুজনকে খাইয়ে দিলো পায়েস, তারপর দুজনেই বাড়ি যাওয়ার জন্য বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ালো। যাওয়ার আগে একবার পেছন ফিরে দুজনেই দুজনকে দেখলো, তারপর দুটো আলাদা আলাদা বাসে চড়ে যে যার বাড়ির দিকে রওনা দিলো....
এমন কিছু কিছু সন্ধে বেলা আমাদের সকলের জীবনে এক একটা স্মৃতি হয়ে থেকে যায়, যা আমরা কখনো ভুলতে পারি না....
*আমরা একটা সংসারে না থাকলেও এক হয়ে থাকবো*
রাকেশ ঘোষাল
Comments
Post a Comment