অবাঞ্ছিত_জীবন
আরও ভাই বোনেদের মতো মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ!
ছোট বেলাটা খুব আদর যত্নেand কাটছিল,
কিন্তু বড়ো হবার সাথে সাথেই, বিধির বিধানে অন্য কিছু লিখেছিলেন!!
ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, অন্যান্য ভাই বোনদের থেকে আমাকে একটু,অন্য ভাবে দেখা হচ্ছে!!
সবাই একসাথে বসে খাচ্ছে, আমাকে আলাদা দিচ্ছে!!
এবং বাবা কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছেন,মা যতটা প্রয়োজন তার বেশি বলতেন না!
তার পর বলা হল, কারো বাড়ি যাবেনা!
কোন আত্মীয় বাড়ীতে অনুষ্ঠানে, নিয়ে যাওয়া বন্ধ হল।
কিছুই বুঝতে পারছিলাম না! ইস্কুলে বন্ধুরাও কেমন যেন আড় চোখে তাকায়, সাথে বসা,খেলা গল্প কিছুই করত না!
একদিন মা কে জিজ্ঞেস করলাম, কেন সবাই আমার সাথে এরকম করছ??
মা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, তুমি ছেলে- মেয়ে কোনটাই নও!!
আমি হতচকিত হয়ে মাকে বললাম, তাহলে আমি কি??
মা কোনো কথা না বলে, অসহ্য আমার উপরে বিরক্ত হয়ে, আমার কাছ থেকে চলে গেলেন!!
কথাটা একদিন প্রিয় বান্ধবী কে জিজ্ঞেস করতে,,
বান্ধবী--কেন জানিসনা, তুই তো হিজড়ে,মানে কিন্নর!!
কথাটা শুনতেই পায়ের নিচে মাটি সরিয়ে গেল!!
তার পরে নিজের সাথে প্রতীক্ষনে লড়াই!!
রাতের নিস্তব্ধতায় সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ত!!
অব্যক্ত যন্ত্রণায় নিজেকে কুঁকড়ে, বিদীর্ণ হৃদয়ের
হা হা কারের কাঁন্নায় ভেঙে পড়তাম!!
হে ঈশ্বর!! না আমি নর, না নারী, তবে আমি কি??
এ তোমার কেমন নিষ্ঠুর পরিহাস!!
শরির দিয়েছ, অনুভবের জন্য হৃদয় দিয়েছ,,
তবে কেন সমাজের অবাঞ্ছিত!!
আর আমি বাড়িতে থাকতে পারবো না,
কারন আমাদের সভ্য সমাজের সভ্যতা নষ্ট হবে,
আমি বাড়িতে থাকলে!!
আমার ফ্যামিলি কে এক ঘরে করবে!!
বান্ধবী রাও আর কথা বলতো না!!
ঠিক হলো, আমার মতো যারা অবাঞ্ছিত, তাদের আলাদা সমাজ আছে, সেখানে পাঠিয়ে দিল!!
চললো তাদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সংঘর্ষ!!পরতাম না নাচ গান করতে,কিন্তু করতে হতো!
মুখে হাসি,অন্তর কুরে কুরে খেয়েছে!
নিজের শরীর কে প্রতিনিয়তই ঘৃণা করেছি!
হৃদয় গ্লানিতে ভরে যেত, ধীরে ধীরে রপ্ত করলাম নিজেকে নিজের সমাজের সাথে!!
কিছু বছর পর...…..
¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤
রাস্তার পাশে এক সদ্যজাত শিশুর কান্না শুনতে পেলাম,কেউ ফেলে গেছে!!
তাকে এনে নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পড়াশুনা শিখিয়ে বড়ো করলাম!!
ও যেদিন আমায় মা বলে ডেকেছিল, সেদিন মনে হল,সব মনের কষ্ট ভুলে নতুন জীবন পেলাম!!
গুড়িয়া, আজ অনেক বড়ো হয়েছে, অনেক বন্ধু বান্ধব!!
আমাকে মা বলে ডাকতে, বন্ধুদের কাছে পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে!!
গুড়িয়া--আমি তোমাদের মধ্যে থাকবো না,দম বন্ধ হয়ে আসে!!
তাই তো রে গুড়িয়া, তুই তো আর আমার মতো, অবাঞ্ছিত, অবহেলিত নয়!!
জীবনের শেষ সম্বল পুঁজি টাও ওকে দিয়ে বললাম,
যা,যারে গুড়িয়া, তোদের সভ্য সমাজে তুই বিয়ে করে, নিজের দুনিয়া বসা!!!!
জীবনের শেষে এসে গেছি!! গুড়িয়া যাবার সময় একটি বারও ঘুরে তাকালো না!!!
একটি বারও মা বলে ডাকলো না,মা আমি আসছি!!
ডাকবে কেন??? যেখানে জন্মদাতা পিতা - মাতা
মর্যাদা দিল না!!!
আমি যে সমাজের না নারী না পুরুষ!!
অসহ্য আভ্যন্তরিক যন্ত্রণার এক মিসাইল!!
অবাঞ্ছিত, অবহেলিত হিজড়ে,কিন্নর
কিন্নর আআআমি!!!!!
( বিঃ দ্রঃ:যখন বাসে, ট্রেনে ওনাদের দেখি,মন খুব দুঃখি, ব্যাথিত হয়! ওনাদের কিছু উগ্র কথা হয়তোবা আমাদের কারো ভালো লাগে না। কিন্তু ওনাদের ভিতরের যন্ত্রণা আমরা হয়তো,কেউই অনুভব করিনি! লিখতে লিখতে মন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত)
রাকেশ ঘোষাল
Comments
Post a Comment