প্রতিবিম্ব
বিকালের দিকে ধীর পায়ে অনীক এগোচ্ছিল ফ্ল্যাটটার দিকে । অনেক কষ্টেই ঠিকানাটা জোগাড় করেছে ও । দুদিন আগেও কি অনীক ভেবেছিল আবার দেখা হতে চলেছে তার সাথে !! এইরকম একটা প্রত্যাঘাতেল জন্য তৈরী থাকা তো দূর ওর জীবনে এই সময় টা আসতে পারে সেটা ও স্বপ্নেও ভাবেনি ।
মৃণালীনির সাথে ওর সেই ছোটোবেলা থেকে বন্ধুত্ব । অবশ্য বন্ধুত্ব বললে ভুলই হবে । সম্পর্কটা অন্যকিছুর । সেই সাত বছর বয়সে যখন অনীক ফুল ঠাম্মার আচারের বয়াম ভেঙে ফেলেছিল আচার চুরি করতে গিয়ে আর নিজের বুদ্ধির জোরে পাশের বাড়ির মৃণালীনির ঘাড়ে দোষটা চাপিয়ে দিয়েছিল । তারপর ঠাম্মার বকুনিটা মৃণালীনি বেমালুম হজম করে নিয়েছিল ওর অনীক দার জন্য সেদিনই অনীক বুঝেছিল মৃণালীনি বোধহয় ওর ঢাল হওয়ার জন্যই ওদের পাশের বাড়িতে জন্মেছে । অবশ্য অকারণে অনেকটা বকুনি খাওয়ার পর মৃণালীনির চোখটাও ছলছল করেছিল সেদিন কিন্তু অনীক সেটা দেখেও না দেখার ভান করে বলেছে ভাগ্যিস তুই আমাকে বাঁচালি আজ মৃণাল নাহলে তো তুই যে পরশু ঋতম কে মেরেছিলিস সেটা আমি স্যারকে বলে দিতাম । মৃণালীনি যদিও জানত ঋতম কে মেরে সে ভুল করেনি কারণ ঋতম ওর অঙ্ক খাতার পাতা গুলো ছিঁড়েছিল ইচ্ছে করেই । তবু মৃণালীনি তাড়াতাড়ি চোখের জলটা লুকিয়ে নিয়েছিল ।
অনীক বেশ বুঝেছিল মৃণালীনি ওকে ভয় পায় । তাই তো যখনই কোনো দুষ্টুমি করত তখনই সেটা মৃণালের উপর চাপিয়ে নিশ্চিন্তে থাকত । এমনকি ক্রিকেট খেলতেও ও মৃণাল নামক নিজের ঢালটা সঙ্গে নিত কারণ প্রায়শই মাঠ ছাড়ানো বলের আঘাতে যখন লোকের বাড়ির জানলার কাঁচ ভঙাত তখন দোষ ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য একটা লোক চাই তো । দলের কারোর উপর চাপালে তো বন্ধুত্বটাই মাটি হয়ে যায় । তাই সব দোষ নির্ভয়ে মৃণালের উপর দিয়ে কাঁচ ভাঙার পর মৃণালের হাতে ব্যাট ধরিয়ে ও রেফারি হয়ে যেত ।
অনীক ঠিক যখন ক্লাস টেনের কিশোর আর মৃণাল ক্লাস নাইনের কিশোরী ঠিক তখনই অনীক বুঝেছিল এতোদিন যেটাকে ও মৃণালীনির ভয় ভেবে এসেছে সেটা অন্যকিছু । একটা অন্যরকম অনুভূতির ছটা যেটা ও মৃণালের চোখে নিজের জন্য দেখতে পায় , সেটা হয়তো ভালোলাগা অথবা ভালোবাসা ।
প্রথম প্রথম বেশ অন্যরকম ভালো লাগাতে ভেসেছিল অনীকও । মৃণালের চোখে নিজের জন্য অপেক্ষা , অনুভূতি দেখতে বেশ ভালো লাগত। মাঝে মাঝেই অনীকও আবেগী গলায় বলতো " তুই না থাকলে যে আমার কি হত মৃণাল , তুই হলি আমার ঢাল , আমার শক্তি , আমার অন্ধের জষ্ঠি , আলোর দিশা ।" কথা গুলো নেহাত মিথ্যে ছিল না । হয়তো কোনো বার টিউশনি স্যারের মাইনের টাকাটা বন্ধুদের সাথে খরচ করে ফেলেছে , তখন ভীষণ সমস্যায় পড়ে একটাই নাম মাথায় আসত ওর , কখনও বা বন্ধুদের সাথে চাইনিজ খাবে অথবা সিনেমা যাবে অথচ টাকা নেই । তখনও সেই একটাই নাম । হয়তো কখনও সারাদিন হই-হুল্লোড়ের পর আর নিজের প্রোজেক্ট করাই হয়নি অথচ সামনেই পরীক্ষা , তখনও ওই একটাই নাম ।
গ্ৰাম ছেড়ে যখন শহড়ে আসছিল অনীক উচ্চশিক্ষার জন্য তখন মৃণালের চোখ দুটো জলে ভরা ছিল , কই অনীকের চোখে তো জল থাকেনি একরাশ উচ্ছ্বাস ছিল অবশ্যই। নতুন শহর , নতুন লোকজন , বাঁধন ছাড়া জীবন , ঝলমলে জীবনচর্চার আহ্বান , নতুনের হাতছানি , এসবের আনন্দে আবার চোখে জল আসে নাকি !!
তবু যাওয়ার আগে একবার আবেগী গলায় বলেছিল অনীক " তুই চিন্তা করিস না মৃণাল , তোকে আমি ভুলে যাবো না , তোকে ফোন করব দেখিস,ফোন ধরিস কিন্তু ।"
মৃণালও কান্না কান্না স্বরে বলেছিল " অপেক্ষা করবো ।"
নাহ্ সত্যিই ভোলেনি অনীক । ফোন করেছিল । অনীকের মধ্যবিত্ত বাবার পাঠানো প্রতিমাসের বরাদ্দ টাকাটা যখন ওর উচ্চাঙ্খাক্ষা মেটাতে ফুরিতে যেত ঠিক তখনই ফোন আসত মৃণালের কাছে । ততদিনে অনীকের সব কৌশল নখদর্পণে ছিল । কথোপকথনের প্রথমটায় প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে নিত ও মৃণালীনিকে তারপর নিজের প্রয়োজনটা মিটিয়ে নিত ঠিক ।
সেবার মৃণালীনিকে ফোন করেই কাঁদো কাঁদো স্বরে বলেছিল " মৃণাল আমায় বাঁচা প্লিজ , সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে আমায় এখন তুইও যদি ফিরিয়ে দিস তাহলে আত্মহত্যা ছাড়া উপায় থাকবে না ।"
মৃণাল উদ্বেগ ভরা মন নিয়ে বলে উঠেছে " আমি সাহায্য করবো তোমায় , কি হয়েছে বলো ভেঙে পরোনা । আমি তো আছি , এসব কথা মাথাতেও এনে না । "
" আমি জানতাম , আমার মৃণাল আমাকে ফেরাবে না । আমি একটা খুব ভালো চাকরী পেয়েছি । খুব ভালো মাইনে । তবে ওদের কনডিশানই ছিল ওদের প্রজেক্টে ইনভেস্ট করতে হবে । আমার জয়েনিং য়ের জন্য পঞ্চাশ হাজার লাগবে কিন্তু এতো টাকা আমি কোথায় পাবো । প্লিজ কিছু কর নাহলে ভালো চাকরীটা হাতছাড়া হয়ে যাবে , অনেক কষ্টে জোগাড় করেছি চাকরীটা । "
মৃণালিনী অনেক ভেবে নিজের জমানো কিছু টাকা আর নিজের মোটা সোনার চেনটা তুলে দিয়েছিল অনীকের হাতে । অনীক একটা কৃতজ্ঞতা ভরা হাসি হেসে বলেছিল " দেখিস একদিন তোকে আমি সব ফিরিয়ে দেবো ।"
মৃণাল ওর হাত দুটো ধরে বলেছিল " তুমিই তো বললে তোমার মৃণাল , তোমার মৃণালের যা সেতো তোমারই , তাহলে কেন ফেরানোর কথা বলছো ।"
অনীক উচ্ছ্বাসে ভরা চোখে বলল
" তুইই আমার শক্তি রে মৃণাল তুই আশার আলো । "
এরপর কেটেছিল প্রায় তিন মাস । শেষ বার যখন মৃণালের ফোনটা রিসিভ করেছিল অনীক তখন ওর ফোনের সেটাটা বদলে গিয়ে দামী আইফোন হয়েছে ।
মৃণাল আবেগী গলায় বলেছিল " এতোদিন ফোন করোনি কেন অনীক দা । আমিও কতবার ফোন করেছি ধরোনি কেন ? "
অনীক উদাসীন গলায় বলেছিল " সময় হয়নি আসলে কাজের এতো প্রেসার , তাছাড়া প্রয়োজনও হয়নি ।"
হঠাৎ যেন থমকে গিয়েছিল মৃণালের গলার স্বর , একটু আগেই উচ্ছ্বাসে গমগম করছিল যে স্বর ফোনের ওপ্রান্তে হঠাৎ যেন ছন্দ হারিয়ে নিঃশেষ হওয়া গলায় বলেছিল " প্রয়োজন পড়েনি ? "
অনীক একই রকম ভাবলেসহীন গলায় বলেছিল " হ্যাঁ , তোর সাথে আর কোনো প্রয়োজন পড়েনি । আর তোরই বা কেন ....
হঠাৎ থেমে গিয়ে আবার বলেছিল " ওহ্ বুঝেছি । এইজন্য দিনে দশবার করে ফোন করে বিরক্ত করিস । আমারই বোঝা উচিত ছিল । ঠিক আছে ঠিক আছে । একদিন সময় করে বাড়ি যাই তারপর তোর পঞ্চাশ হাজার আর যাযা এতোদিন খরচ হয়েছে সব ফিরিয়ে দেবো । "
মৃণালীনি থমথমে গলায় বলেছিল " কি বলতে চাও তুমি অনীক দা , তোমার সাথে আমার টাকার সম্পর্ক? ?"
" তা নয় তো কি ? " নির্বিকার গলায় বলেছিল অনীক " ভালোবাসা? ওসব তোর মতো গেঁও মৃণালীনির প্রতি শহুরে অনীক চ্যাটার্জীর আসে না। যদি সেই ধারণা করে থাকিস তাহলে ভুল করছিস । যাক্ গে যখন তখন ফোন করে বিরক্ত করিস না , আমি চাই না তোর জন্য আমার আর পিউয়ের মধ্যে মিস-আন্ডারস্টান্ডিং হোক । আমি তোর যা যা খরচ হয়েছে আমার জন্য সব ফিরিয়ে দেব।" এরপরই শোনা গেল ফোনের বিপবিপ টোন ।
পাথরের মতো নিশ্চল হয়ে মৃণালীনি শুনল ওর অনীক দার নামে আগে কেমন একটা শহুরে ট্যাগ লেগেছে আর ওর অনীকদার মৃণালীনি বদলে গিয়ে মৃণালীনি গেঁও শিরোপা পেয়েছে । ভালোবাসার মধ্যেও তাহলে শহরে-গেঁও ট্যাগটা লাগানো যায় । কি যেন বলল অনীক দা ? টাকা পয়সা সব ফিরিয়ে দেবে । সব ? সেদিন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করেছিল মৃণালীনির " ফিরিও দাও , আমার এতোদিনের ভালোবাসা ফিরিয়ে দাও , আমার প্রতিমুহুর্তের অপেক্ষাদের ফিরিয়ে দাও, আমার তোমার জন্য প্রার্থনা গুলো ফিরিয়ে দাও , আমার তিলতিল করে গড়া স্বপ্ন ফিরিয়ে দাও ।" কিন্তু মৃণালীনির মুখ ফুটে বেরোলো না কিছুই , অবশ হাত দুটো আর ডায়াল করতে পাড়ল না কললিস্টের শেষ নম্বরটা । এরপর দুবছর কেটে গেছে । অনীকের অবশ্য আর গ্ৰামের আসার সময় বা প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি । সেদিন অনীক তাড়াহুড়ো করেই অফিসে বেরোলো , আজ নতুন বস আসছে । শুনেছে বস নাকি মহিলা । মনে মনে ঠিক করে ফেলেছে অনীক , নিজের ঘায়েল করা স্মার্টনেস , আর লুক দিয়ে ঠিক বসের মন জয় করে নেবে । ব্যাস ! তারপর আর পায় কে ? লাইফ পুরো সেট । ওর মেয়ে পটানোর কায়দার জন্যই অফিসে তো সকলে ওকে রোমিও বলে । অবশ্য পিউ কে কাটাতে হবে , তবে সে ব্যাপারে ভেবে লাভ নেই । ওটা তো ওর জাস্ট একমিনিটের ডিসিশন ।
অফিসে ঢুকেই বসের ঘরে গেল অনীক । দরজাটা খুলেই থমকে দাঁড়াল " মৃণাল ?" সেই আনস্মার্ট , বোকাসোকা মেয়েটার একি লুক , সত্যিই একি মৃণাল নাকি ..?
কিন্তু এতো মিল , ও নিজের অজান্তেই ডেকে ফেলল " মৃণাল "।
কালো ফ্রেমে চশমার ভিতর থেকে দুটো বুদ্ধিদীপ্ত চোখ তুলে মৃণাল বলল " মিস মৃণালীনি , অ্যান্ড ইউ হ্যাভ টু কল মি ম্যাম " ।
এতদিন এই আফিসে কাজ করে এইটুকু ম্যানারস জানেন না ।
অনীক আকুল স্বরে বলল " মৃণাল , মৃণাল একবার আমার কথাটা....."
মৃণাল তীক্ষ্ম গলায় বলল " জাস্ট শাট আপ মিস্টার চ্যাটার্জী । ইফ ইউ ওয়ান্ট টু ওয়ার্ক ইন দিজ অফিস দেন ইউ হ্যাভ ওবে দ্যা রুলস্ ।
কোনো রকম দেয়াদপি আমি সহ্য করবো না । মাইন্ড ইট ।
আর হ্যাঁ আপনার কাজে অনেক মিসটেক দেখলাম , অনেকের কাছে খোঁজ নিয়েও জানলাম আপনি নাকি এই রকমই ইডিয়ট । অনেক কমপ্লেইন আপনার বিরুদ্ধে । শুনুন যদি মন দিয়ে কাজটা করতে পারেন তবেই অফিসে আসবেন আদার ওয়াইজ নিজের রেজিগনেশন লেটার রেডি করুন , নয়তো তৈরী থাকুন ডিসচার্জের জন্য।
"কিন্তু আমি তো , আমি তো।"
- " নাউ গেট লস্ট ।"
যখন ফ্ল্যাটের সামনে পৌঁছাল অনীক ঘড়িতে তখন পাঁচটা । তখন কোথায় যেন বেড়িয়ে যাচ্ছে মৃণালীনি । দেখেই দ্রুত পা চালানো অনীক । নাহ্ তাহলে পুরোটা বদলে ফেলেনি মৃণাল নিজেকে । পরণে সাধারণ একটা সালোয়ার কামিজ । ঠিক যেন সেই পুরোনো মেয়েটা ।
অনীক কাছে গিয়ে হাত জোর করে বলল " আমাকে ক্ষমা কর মৃণাল , তোর সাথে অনেক অপরাধ .."
অনীক কে মাঝ পথে থামিয়ে দিয়ে মৃণালীনি ধারালো স্বরে বলল " মিস্টার অনীক চ্যাটার্জী । আবার বলছি মৃণালীনি, নাম মৃণালীনি সেনগুপ্ত। আমি আশা করব আপনি এই ভুল আর করবেন না ।"
অনীক আশাহত গলায় বলল " কত বদলে গেছে আমার মৃণাল ।"
মণালীনি সেই একই রকম তীক্ষ্ম গলায় বলল " ভুল করছেন , মৃণালীনি কারোর ছিল না যাতে তাকে আমার বলা যায় , মৃণালীনি গেঁও ছিল বোকা ছিল তবে মৃণালীনি মানুষ ছিল আর আজও তাই আছে । আর ক্ষমা করার কথা বললেন ?? মৃণালীনির সাথে তো আপনার ক্ষমা , মাপের সম্পর্ক ছিল না । একটা সম্পর্কই ছিল সেটা টাকার সম্পর্ক আর আজও তাই আছে । "
মৃণালীনি তাড়াতাড়ি নিজের ব্যাগ থেকে একটা এক লাখ টাকার চেক বের অনীকের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল
" আপনার একটা ধন্যবাদ পাওনা ছিল , আর শুকনো ধন্যবাদ আপনার আবার পোষাবে না । আর মৃণালীনির সাথে আপনার একটা টাকার হিসেবও বাকি ছিল । সেটাই মিটিয়ে দিলাম , আপনার উপকারের প্রতিদান । আপনি আমাকে সেদিন নিজেকে চিনিয়ে দিয়ে বড়ো উপকার করেছিলেন । চিনিয়ে ছিলেন আমার কাছের মানুষ গুলোর কোনটা মুখ কোনটা মুখোশ , নিজের মনের ঘুমিয়ে থাকা জেদটাও চিনিয়েছিলেন । সেদিনই জেনেছিলাম এই গেঁও , বোকা মৃণালীনি প্রয়োজনে কি কি করতে পারে ?? অপমানের জবাবও দিতে পারে । তাই আপনার কাছে আমি খুবই কৃতজ্ঞ । আর কৃতজ্ঞতার হিসেব মৃণালীনি বাকি রাখে না মিটিয়ে দেয় । "
- " আর একবার নতুন করে শুরু করা যায় না মৃণাল, সব ভুলে । "
" আপনাকে লাস্ট বার ওয়ার্নিং দিচ্ছি মিস্টার অনীক চ্যাটার্জী । মৃণাল নামটা আপনার উচ্চারণ নিষিদ্ধ । এখন আমি শুধুই মৃণালীনি , নিজের মৃণালীনি । আর নতুন শুরু ? সে তো অনেক দিন আগেই করেছি , নিজেকে নিয়ে । আপনার সেখানে কোনো জায়গা নেই । তবে আপনার জন্য একটা সাজেশন অবশ্যই আছে , টাকা ছেড়ে এবার মানুষকে ভালোবাসতে শিখুন ।
তবে হ্যাঁ ওই এক লাখ টাকাটা সাথেই রাখুন ।কে জানে আপনার অবাধ্যতার জন্য আপনাকে কবে কখন আবার পঞ্চাশ হাজার দিয়ে নতুন চাকরী খুঁজতে হয় ।"
কথা শেষ করে দৃঢ় পদক্ষেপে মৃণালীনি এগিয়ে গেল সামনের দিকে ।
পিছনে অনীক দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করছিল কয়েক মিনিটের কি একটা ঝড় বয়ে গেল অনীকের জীবন দিয়ে, যাতে সব পুরোনো হিসেব নিকেষ ভেঙে এলেমেলো হয়ে গেল , ও এখানে কি বলতে এসেছিল কতটাই বা বলতে পারল , নিজের মনকে প্রশ্ন করে উত্তরের কোনো হদিশ পেল না ও ??
আনমনেই নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকালো অনীক । " পাঁচটা পোনেরো ।" অনীক বুঝল সময় বদলে গেছে । বিকালের আলো শেষ হয়ে কেমন যেন ঝপ করে অন্ধকার নেমে এসেছে অনীকের আলো ঝলমলে শহরটায় ।
অবাক হয়ে অনীক ভাবল তার চারপাশটা কি ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে ক্রমশ ??
রাকেশ ঘোষাল
Comments
Post a Comment