প্রেমে পড়িনি
বিশ্বাস কর, আমি তোর প্রেমে পড়িনি তখনও। তবে হ্যাঁ,ওই মিছিলে তুই আমি হেঁটেছিলাম পাশাপাশি, যেখানে নারীদের সমান অধিকারের দাবিতে পা মিলিয়েছিলাম আমরা। হাতে বড় বড় পোস্টার, তাতে লেখা ছিলো, নারী-পুরুষ সমান সমান। দুজনের একটাই পরিচয়, তারা মানুষ।
তুই মাইক হাতে চিৎকার করে বলেছিলিস, মেয়েদের সম্মান দিতে হবে। আমি অপলক চেয়েছিলাম তোর দিকে। দৃপ্ত ভঙ্গিমা, উদাত্ত কণ্ঠ...এই তো আমার স্বপ্নের পুরুষ। বেশ কিছুক্ষণ একসাথে পথ চলায় তোর আঙুল ছুঁয়ে যাচ্ছিলো আমাকে।
আমি মুগ্ধ হচ্ছিলাম।
কিন্তু প্রেমে পড়িনি তখনও।
তুই বলেছিলিস, সব মেয়েদের অধিকার আছে নিজের পছন্দের পোশাক পরার। নিজের মত করে বাঁচার! আমি শুনছিলাম। শুধুই শুনছিলাম। আবেশ ছড়াচ্ছিলো আমার গোটা মনে।
তখনও কিন্তু প্রেমে পড়িনি।
হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে বললি, জল খাবি? এবার তোকে বলতে হবে, মাইক এখন তোর হাতে। আমি ঘাবড়ে একসা! তুই বললি, নিজেদের অধিকার কেউ দেয় না পাগলী কেড়ে নিতে হয়।
আমি তখনও প্রেমে পড়িনি, তবে ভালো লাগছিলো তোকে।
আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, কী বলবো আমি? তুই বলেছিলিস, এই সমাজের কাছে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে তোদের ন্যায্য দাবি চাইবি।
এতটা সম্মান পেয়ে আমি ভাবছি, প্রেমে পড়বো কিনা ভাবছি।
তুই বললি, তোরা যে শুধু মাংসপিন্ড নোস সেটা বলবি। পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে বলবি। আমি অনুপ্রাণিত, আপ্লুত। ভেবে নিলাম, তুইই হবি আমার জীবনসঙ্গী।
কিন্তু তখনও প্রেমে পড়িনি তোর।
মঞ্চে ওঠার আগে তুই বললি, গায়ের ওড়নাটা ঠিক করে নিস। বড্ড চোখে লাগছে, কুর্তির সামনের ডিজাইনটা।
আবার আমাকে মেয়ে বলে চিনিয়ে দিলি তুই। চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলি আমি মেয়ে...মানুষ হতে দিলি কই? মেয়েই যে রয়ে গেলাম। সেই বুকে আটকে গেল তোর দৃষ্টি। হৃদয় অবধি পৌঁছালি কই!
ভাগ্যিস আমি প্রেমে পড়িনি তখনও।
রাকেশ ঘোষাল
Comments
Post a Comment