ভালোবাসা ভালোবাসা



আচ্ছা মিসেস সৃজনী দাস আপনার কি মনে হয়, আপনার হাজবেন্ড রেপ করতে পারেন? না মানে মিস্টার পল্লব দাসের বিরুদ্ধে এমনই চার্জ এনেছেন ওনার পি.এ লাবণ্য সরকার। যদিও এখনো অনেকগুলো টেস্টের রিপোর্ট দেখা বাকি, বেশ কিছু অবজারভেশনও বাকি, তবুও আপনি যেহেতু ওনার ওয়াইফ তাই আমরা আপনার কাছেই এলাম।
মহিলা পুলিশ অফিসারের দিকে একনজর তাকালো সৃজনী। বেশ গোলগাল চেহারা। সিঁথিতে অল্প সিঁদুরের রেখা, বাঁ হাতে একটা সিলভার রিস্টওয়াচ আর ডান হাতে গোল্ডেন চুড়ি। মুখের দিকে একবার তাকালেই বোঝা যায়, জীবনে কোনোরকম কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি ভদ্রমহিলাকে। সেই একেক জনের কপাল থাকে না, পাশ করেই চাকরি, বাধ্য স্বামী, সন্তান নামি স্কুলের ফার্স্ট বয়, এমনই একটা সুখী সুখী ভাব আছে মহিলার চেহারায়। ওনার খাঁকি পোশাকের দিকে তাকিয়ে সৃজনী ভাবলো, পুলিশের জব করছেন, জটিল পরিস্থিতি দেখেননি এমন তো নয়। তবে সেসব জটিল পরিস্থিতিকে উনি বোধহয় পার্ট অফ হার জব বলেই কাটিয়ে দিয়েছেন। না হলে মুখে একটাও দুশ্চিন্তার রেখা এসে ছোবল দেয়নি কেন? সৃজনীকেও লোকে বেশ সুন্দরী বলে, এক নজরে বেশ আকর্ষণীয় লাগে ওকে। কিন্তু আয়নার সামনে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখলেই নজরে পড়ে চোখের নিচে খুব হালকা হলেও হাঁসের পায়ের ছাপ ফুটেছে। ও ভালো করেই বোঝে ওটা বয়েস নয়, মানসিক দুশ্চিন্তার লক্ষণ। 
কি ব্যাপার মিসেস সৃজনী দাস, আকাশ পাতাল কি ভাবছেন বলুন তো? আপনাকে তো খুব সহজ একটা প্রশ্ন করা হয়েছে, উত্তরটা দিন?
পুলিশ অফিসারের গলায় অসহিষ্ণুতার লক্ষণ স্পষ্ট হলো। ঠিকই ভেবেছিল সৃজনী, এই অফিসার ভদ্রমহিলার জীবনে তেমন কোনো জটিলতা নেই, সরলরেখায় চলতেই অভ্যস্ত উনি। তাই সৃজনীর উত্তর দিতে পাঁচ মিনিট দেরি হচ্ছে বলেই উনি রীতিমত বিরক্ত। 
সৃজনীরও অবশ্য এখন ধৈর্য্য অনেক কমেছে। সেই আগেকার নরম সরম মেয়েটা আর নয় ও। একটু ব্যঙ্গাত্মক স্বরেই বললো, আপনাকে দেখলেই বোঝা যায় কেন আমাদের দেশের আইনি ব্যবস্থার এই হাল হয়েছে!
অফিসার ভ্রু কুঁচকে বললেন, মানে? কি বলতে চাইছেন আপনি?
সৃজনী বিরক্ত হয়ে বলল, পল্লব দাস মলেস্ট কেসের আসামি, না রেপ কেসের সেটা তো আমার জানার কথা নয়। আপনি হঠাৎ আমার কাছে কি উদ্দেশ্যে এসেছেন সেটাই তো ক্লিয়ার হলো না? 
পুলিশ অফিসার মিসেস গায়েত্রী বর্মন বললেন, উনি যেহেতু আপনার হাজবেন্ড, তাই প্রথম আপনাকেই জিজ্ঞেস করতে আসা হয়েছে!
সৃজনী বললো, বললাম না, আপনাদের জন্যই আজ আইনি বিভাগের এই হাল। মিনিমাম হোমওয়ার্ক না করে খাঁকি পোশাক চাপিয়ে সকালবেলা ভদ্রলোকের বাড়িতে হানা দিলেন। নেহাত আমি আজ এখনও অফিস যাইনি তাই, নাহলে তো আমার বাবা, মাকেও হ্যারাজ করতেন! 
শুনুন অফিসার, পল্লব দাস এই মুহূর্তে আমার কেউ হয়না। এক বছর আগে পল্লব দাসের সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল, তারপর মাস তিনেকের মধ্যেই ডিভোর্স হয়ে গেছে। ওই তিন মাসের মধ্যে মাত্র দু সপ্তাহ আমি ছিলাম দাস বাড়িতে। আমাকে সৃজনী দেব বলে সম্বোধন করলে খুশি হবো। পুরোনো দুদিনের সম্পর্কের জের ধরে এই কেসে আমাকে সামনে না আনলেই বাধিত হই।
অফিসারের চওড়া ভ্রূটা একবারই মাত্র আন্দোলিত করেই থেমে গেল। তারপর খুব স্বাভাবিক গলায় বললেন, তো মিস সৃজনী দেব, আপনাদের তো অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ছিল! মানে দেখে শুনে, যথেষ্ট খোঁজ নিয়েই তবে বিয়েটা দেওয়া হয়েছিল! আর আমি যতটুকু খবর পেলাম তাতে মিস্টার পল্লব দাস এস্টাবলিসড, ধনী, সুদর্শন পুরুষ। বয়েস মাত্র ত্রিশ। তাহলে কেন আপনি হঠাৎ ওনাকে ডিভোর্স করলেন? আপনি তো এখনো বিয়েও করেননি! ডিভোর্সের কারণটা কি পরনারীর প্রতি ওনার আকর্ষণ? মানে ওনার চারিত্রিক দোষের কারণেই কি আপনি ডিভোর্স করেছেন?
সৃজনী হালকা হেসে বললো, মিউচ্যুয়াল ডিভোর্স ছিল ওটা। পল্লবই প্রথম ডিভোর্সের আর্জি করেছিল আমার কাছে। তাই আমাদের ডিভোর্সের কারণ আর ওর এই রেপের কারণ এক করে অতি সাধারন একটা সমাধানে যদি আসতে চান, তাহলে আমি এক্সট্রিমলি সরি। আমি এ ব্যাপারে কোনো রকম হেল্প করতে পারছি না আপনাকে। 
তাছাড়া এই মুহূর্তে পল্লব দাস আমার কেউ নয়, তাই এই কেসে আমাকে কোনোভাবে জড়াবেন না প্লিজ।
অফিসার একটু বিরক্ত হয়েই বললেন, দেখুন কেসের প্রয়োজনে আপনাকে সাক্ষ্য দিতে আসতে হতেই পারে আদালতে। আপনি নিষেধ করলেও আমি নিরুপায়। 
পল্লব দাস সম্পর্কে আপনার ধারণা কেমন? মানে আপনার সাথে উনি কেমন বিহেভ করেছেন?
সৃজনী মাথা নিচু করে বললো, পল্লবকে আমি কোনদিনও ক্ষমা করতে পারবো না একটা বিশেষ কারণে, তবে ও আমার সাথে কোনোদিন কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি। বরং একটু বেশিই ভালো ব্যবহার করেছিল। 
আপনার কি মনে হয় ও রেপ করতে পারে?
সৃজনী বিরক্ত হয়ে বলল, আমার মনে হওয়াতে কি ওকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে? হবে না তাই না? তার জন্য প্রমাণ দরকার, তাহলে আমার কি মনে হয় জেনে আপনার কিসের লাভ বলুন? আমার কাজ আছে, আপনি আসুন প্লিজ। 
আপনি তো নিউজ রিপোর্টার, আপনাদের কাগজে এই নিউজটা বেরোয়নি?
সৃজনী আলতো করে বললো, হ্যাঁ বেরিয়েছে। তবে আমি নিউজটা করিনি। 
অফিসার যাওয়ার সময় জানিয়ে গেলেন, প্রয়োজনে আবার আসবো। 
সৃজনী একটু অন্যমনস্ক হয়ে বসেছিলো নিজের ঘরের খাটে। দূরে কিছু বাচ্চার খেলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। 'কলতান পার্কে' বোধহয় কিছু কচিকাচা ভিড় জমিয়েছে। জানালার দিকে তাকাতেই এক টুকরো সবুজ এসে জুড়িয়ে দিলো জ্বালা ধরা চোখ দুটোকে। 
ফোনটা ভাইব্রেট করছে দেখে রিসিভ করলো। ওপ্রান্ত থেকে বেশ উত্তেজিত গলায় ওদের নিউজ পেপার 'প্রথম আলো'র সম্পাদক বললেন, আরে সৃজনী তুমি তো একবারও বললে না মিস্টার পল্লব দাস তোমার এক্স হাজবেন্ড? আই নিড এ নিউজ ইমিডিয়েটলি। তার এক্স ওয়াইফ নিউজটা করছে জানলে পাবলিক খাবে বেশি, টি আর পি এক লাফে বেড়ে যাবে। তাড়াতাড়ি অফিসে এসো। 
সৃজনী হালছাড়া গলায় বলল, পল্লব আমার এক্স হাজবেন্ড জানলে কি আমার জবটা থাকতো না স্যার?
স্যার একটু ঘাবড়ে বললেন, আরে না না, সেটা নয়। 
জব কেন যাবে? তবে কি বলতো, এই টপিকটা তুমি লিখলে বেশ জমে যাবে। স্যারের এই স্বাভাবিক ভাবে বলা কথাগুলো অন্য সময় সৃজনীর তেমন খারাপ লাগে না। বরং বেশ এনার্জি দেয়। কিন্তু এই মুহূর্তে পল্লব নামটাতেই বুকের বাম দিকে আচমকা একটা ভুলে যাওয়া ব্যথা চিনচিন করে উঠলো। 
আনমনে ভাবছিলো সৃজনী.. মানুষটা তো খারাপ ছিল না, হঠাৎ তার নামে রেপের মত জঘন্য দোষারোপ কেন উঠলো সেটাই তো বুঝতে পারছে না। বড্ড ঘরকুনো, মারাত্মক ইন্ট্রোভার্ট মানুষ পল্লব, সৃজনী তো ভাবতেই পারছে না পল্লব কারোর ওপরে জোর করে সেক্সুয়াল রিলেশন তৈরি করতে চাইবে! এটা তো ওর ভাবনারও অতীত। তবে মানুষকে কি সত্যিই চেনা যায়! আর পল্লবকে তো সৃজনী সত্যিই চিনতে পারেনি, ওর ভিতরে হয়তো এমন একটা পাশবিক বৃত্তি লুকিয়ে ছিল, বুঝতেই পারেনি সৃজনী। 
কুর্তির ওপরে হালকা স্কার্ফটা গলায় বাঁধতে বাঁধতে মনে পড়লো, এই কচি পাতার রংটা পল্লবের খুব পছন্দের ছিল। আচমকা মনে পড়ে গেলো পল্লবের সাথে প্রথম দেখার দিনটা।
সিনি তোর টিফিন, ভরে নিস। মা টিফিন বক্সটা টেবিলে রাখতে রাখতে হাঁক দিলো। নিজের মনেই বললো, এখনো কত কাজ বাকি....
সেদিনও সকাল থেকেই মা বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দিয়েছিল, এখনো কত কাজ বাকি..
পাত্রপক্ষ বাড়িতে এসে যাবে অথচ আমার জলখাবার রেডি হবে না! ছি ছি, সুগন্ধা কি যে বলবে কে জানে!
সুগন্ধা মায়ের ছোটবেলার বান্ধবী। পল্লবের খুড়তুতো পিসি। সুগন্ধা মাসিই সম্বন্ধটা এনেছে। ছেলে ভালো সার্ভিস করে, সুদর্শন, উচ্চশিক্ষিত নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে এই যথেষ্ট। তাছাড়া মা নিশ্চিন্ত ছিল, সুগন্ধার আনা পাত্র কোনোভাবেই খারাপ হতে পারে না। সুগন্ধা যে সিনিকে নিজের মেয়ের মতই ভালোবাসে। সৃজনীকে বাড়িতে সবাই সিনি বলেই ডাকে। 
বাবা বার চারেক বাজারে গেছে -এসেছে, মুখে দুশ্চিন্তার লক্ষণ সুস্পষ্ট। সৃজনী ঠাট্টা করে বলেছে, বাবা প্লিজ চেঞ্জ দিস লুক। এই কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা টাইপ লুকটা জাস্ট নিতে পারছি না। মনে রেখো, তোমার মেয়ে সেরা তিলোত্তমা সুন্দরীর খেতাব জিতেছে, পেশায় সাংবাদিক। বুঝতেই পারছো পেশা আর চ্যালেঞ্জ দুটোই সে একসাথে নিতে পারে। তাই তোমার শিরদাঁড়া হবে ঋজু, কপালে থাকবে হালকা অহংকারী রেখার আনাগোনা। গর্বে বুকটা থাকবে পরিপূর্ণ। তুমি তোমার মেয়েকে সঠিক ভাবে মানুষ করেছ। ভালো জব আমিও করি বাবা, তাই নিচু হয়ে থাকবে না। আমার বড্ড কষ্ট হবে। 
রঞ্জনবাবু চিরটাকালই বড্ড ধীর স্থির মানুষ। স্কুল শিক্ষক হয়েও কখনো গলা তুলে ছাত্রদের সাথে কথা বলেননি। মেয়ের কথায় নরম হেসে বললেন, বটেই তো বটেই তো, আমার সিনি কম কিসে!
মা রান্নাঘর থেকেই ফোড়ন কেটেছিল, ঘরে কচিপাতা রঙের পিওর সিল্কটা রেখেছি, ওটা পরে নে। 
সৃজনী বিরক্ত হয়ে বলেছিল, কেন শাড়িই কেন? চুড়িদার, কুর্তিতে কি সমস্যা? মা চোখ পাকিয়ে বলেছিল, যেটা বলছি শোনো সিনি। 
মায়ের এই শাসন শাসন ভালোবাসাটা বড় হবার পরও একেবারেই মিস করতে চায়না সৃজনী। তাই মাঝে মাঝেই মায়ের অবাধ্য হয়ে ওই শাসনের সুরটুকু থেকে ভালোবাসাটা শুষে নেয় ও। বাবা তো কোনোদিন কড়া গলায় কথাই বললো না সিনির সাথে। বকাঝকা যা করে মা। সিনি যেন খুব ভয় পেয়েছে এমন ভাবেই মেনে নেয় মায়ের কথাগুলো। ও খেয়াল করেছে, সিনি শেষ পর্যন্ত তর্ক, বিতর্কের পরে মায়ের কথা মেনে নিলেই মায়ের মুখে ফোটে অদ্ভুত এক শান্তি। ঠোঁটের কোনের ওই গর্বের হাসিটুকুর অর্থ খুঁজে বের করেছে সিনি। অর্থ হলো, যাক মেয়েকে এখনো নিজের কন্ট্রোলেই রাখতে পেরেছে নীলিমাদেবী। মায়ের মুখের ওই প্রাপ্তির তৃপ্তি দেখবে বলেই শেষ পর্যন্ত মেনে নেয় সিনি মায়ের খুব ছোট ছোট আব্দারগুলো। সেদিনও সৃজনী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ির আঁচল ঠিক করছিল, আর নিজেকে দেখছিল মুগ্ধ চোখে। শাড়িতে ওকে আরও আকর্ষণীয় লাগছিলো সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই ঠিকই কিন্তু ও দেখছিল আয়নার মধ্যে ওর সম্পূর্ন অপরিচিত এক সৃজনীকে। যার চোখের কাজলে অল্প লজ্জার রেখা উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। 
মা বলে, মেয়েদের একটু লজ্জা-সরম থাকা ভালো। সিনি যদিও এসব অদ্ভুত অবৈজ্ঞানিক কথায় মোটেই বিশ্বাসী নয়। মেয়েরা শুধু শুধু লজ্জা পেতে যাবেই বা কেন! সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পর থেকেই নিজের মধ্যে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিল সৃজনী। যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সব সময় রেডি। মেয়ে বলে অমুক নিউজটা করতে পারবো না, তমুক জায়গায় যেতে পারবো না এসব বলায় ও ঘোর বিরোধী ছিল। সেই জন্যই খুব তাড়াতাড়ি ও সিনিয়র নিউজ রিপোর্টারের দলে ঢুকে পড়েছে। তাই এসব মেয়েলি আলগা লজ্জা, সংকোচ ওর ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেনি কখনো। 
কলেজের থার্ড ইয়ারে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে একবার তিলোত্তমা সুন্দরী কম্পিটিশনে নাম দিয়েছিল, সেখানে ও যখন ফার্স্ট হিসাবে মনোনীত হয়েছিল তখন আর স্টেজে উঠে প্রাইজ নিতে ইচ্ছে করেনি ওর। সব উত্তেজনা কেমন যেন দমে গিয়েছিল। মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আরেকটা মন বিদ্রুপ করে বলেছিল, সৌন্দর্য শব্দের অর্থ কি সৃজনী? শুধুই বাহ্যিকভাবে সকলের সামনে নিজেকে প্রেজেন্ট করা? অদ্ভুত রকমের অস্বস্তি হচ্ছিল স্টেজে উঠে প্রাইজ নিতে। তাই গ্রিনরুম থেকেই বন্ধুদের চোখ এড়িয়ে চলে এসেছিল। মঞ্চে উঠে ফার্স্ট প্রাইজ নেওয়ার অর্থ হচ্ছে বাকিদের থেকে ও সুন্দরী, এটাই প্রমান করা.... একটা অস্বস্তি মেশানো লজ্জায় ও আচ্ছন্ন হয়েছিল। পরে রুমিতা একটা ট্রফি আর চেক দিয়ে গিয়েছিলো বাড়িতে। সৃজনীর সেদিনও লজ্জা করেছিল।
পরে অবশ্য এটা নিয়েই ও মজা করে সকলের সাথে। এই যেমন বাবাকে বললো, তোমার মেয়ে সেরা তিলোত্তমা হয়েছিল, গর্ব করো...
আজও চোখের কোনের হঠাৎ লজ্জার কারণ খুঁজতে গিয়ে নিজের ওপরেই বিরক্ত হলো। কে না কে অপরিচিত একটা ছেলে আসছে ওকে দেখতে, তার জন্য সৃজনী নাকি লজ্জা পাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ভেবে নিয়েছিল, ছেলেটাকে কি ভাবে নাকাল করা যায়। ঠোঁটের কোণে সেই স্কুলবেলায় দুষ্টু সৃজনীর হাসির ঝলক ফুটে উঠেছিলো। আয়নায় সেদিকে আড়চোখে তাকিয়ে দেখেই চুলটা ব্রাশ করছিল ও। 
ঠিক সেই সময়েই ছবিতে দেখা পল্লব নামের ছেলেটা দরজা ঠেলে হুড়মুড়িয়ে ঢুকেছিলো ওর ঘরে। তারপরেই অপ্রস্তুত হয়ে বলেছিল, এটা ওয়াশরুম নয়?
হকচকিয়ে গিয়েছিল সৃজনী। ঘাবড়ানো গলায় বলেছিল, আমি তো পাশেরটাকেই এ বাড়ির ওয়াশরুম বলে জানি, এখন কেউ যদি আপনাকে এই রুমটাকে ওয়াশরুম দেখিয়ে থাকে, তাহলে আপনি এখানেই....
ওর কথা শেষ হবার আগেই ছেলেটা ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। 
মিনিট পাঁচেক পরে রুমালে মুখ মুছতে মুছতে এসে বলেছিল, বাই দ্য ওয়ে, কচি পাতা রং আমার ভীষণ প্রিয়। যদিও আপনি আমায় বিয়ে না করলে আমি খুশি হবো। আমার মত উরণচন্ডী ছেলেকে বিয়ে করে আপনি হ্যাপি থাকতে পারবেন না। বাবা, মা, সুগন্ধা পিসি জোর করায় আজ এসেছি এখানে, কিন্তু বিশ্বাস করুন, বিয়ে ব্যাপারটার জন্য আমি রেডি নই। 
সৃজনী হেসে বলেছিল, বাবা, মায়ের হাত ধরে বাধ্য ছেলের মত মেয়ে দেখতে আসার সময় মনে ছিল না, আপনি রেডি নন?....শুনুন মশাই, আমিও বিয়েতে বিশেষ আগ্রহী নই, ইনফ্যাক্ট আমি নিজের কেরিয়ার নিয়ে বেশি ভাবিত। কিন্তু ওই যে, আমার বাবা, মা, সুগন্ধা মাসি এরা যে আমার বাড়িরও মেম্বার, তাই আমিও নিমরাজি হয়েছি। 
এক কাজ করুন, মেয়ে আপনার অপছন্দ হয়েছে এটা ডিক্লেয়ার করে দিন, কাজ হালকা হয়ে যাবে। তবে শুনুন, আমার মায়ের হাতের মটন রেজালাটা খেয়ে যাবেন দুপুরে, ওটা মিস করবেন না। খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে তারপর বলবেন, যে মেয়ে আপনার একেবারেই পছন্দ নয়। পল্লব করুণ হেসে বলেছিল, কিন্তু আপনাকে পছন্দ নয় বলার জন্য যে সাহস দরকার সেটা তো আমার নেই। সত্যি বলতে কি আপনাকে আমার ভীষণ পছন্দ, কিন্তু বিয়েটা আমি করতে পারবো না। 
সৃজনী হালকা ছলে বলেছিল, প্রেম? না পুরোনো ব্যথা, কোনটা খোঁচাচ্ছে বলুন তো?
পল্লব গলা ঝেড়ে বলেছিল, এগুলোর কোনোটাই নয়, একটা বিশেষ কারণে আমি রাজি নই। সেই কারণটা আমি বলতে পারবো না বিশ্বাস করুন। 
অদ্ভুত রকমের একটা জেদ চেপেছিলো সেদিন সৃজনীর মাথায়। বলেছিল, কারণ না জানালে আমি যে আপনাকেই বিয়ে করবো মশাই, কেউ আটকাতে পারবে না। পল্লব কাতর গলায় বলেছিল, বিলিভ মি, আমি সংসারের উপযুক্ত নই। সৃজনী হেসে বলেছিল, দুজন উপযুক্ত নই সমান সমান উপযুক্ত বুঝলেন। মাইনাস মাইনাস মিলেই তো প্লাস হয়, চিন্তা করবেন না। অগোছালো, এলোমেলো আপনাকে আমি বকব না, আমিও বড্ড এলোমেলো। ছুটির দিনে ঘুম কাতুরে আপনাকে আমি ডেকে তুলবোও না, বরং আমিও পাশ ফিরে ঘুমাবো। পল্লব নরম হেসে বলেছিল, যদি কারণটা বলতে পারতাম হয়তো আপনি বুঝতেন। 
সৃজনী বলেছিল, তাহলে সবাইকে বলুন আমাকে আপনার পছন্দ হয়নি, তাহলেই মিটে গেল।
পল্লব কাতর গলায় বলেছিল, আপনাকে যে আমার ভারী পছন্দ, বিশ্বাস করুন। 
সৃজনী চুপিচুপি বলেছিল, করলাম। 
কেন কে জানে সৃজনীরও ওই উদাসীন নরম স্বভাবের ছেলেটাকে ভীষণ ভালো লেগে গিয়েছিল। ভেবেছিল, দুজন বিয়েতে ভয় পাওয়া অপটু মানুষ যদি শুরু করে তাদের নতুন সংসার, তাহলে দোষারোপ করার কেউ থাকবে না, বরং একে অপরকে জড়িয়ে ধরেই শুরু হবে ওদের খেলাঘর। 
দুবাড়ি থেকেই কারোর অমত তৈরির কোনো সুযোগ ছিল না এ বিয়েতে। সকলের মুখে একটাই কথা ছিল.. পারফেক্ট ম্যাচ। শুধু পল্লবের মুখেই লেগেছিল দ্বিধা দ্বন্দ্বের দোটানা। সৃজনী ভেবেছিল, ব্যাচেলর লাইফ থেকে বাঁধা ধরা জীবনে প্রবেশের ভয়েই হয়তো দোটানায় ভুগছে পল্লব, আস্তে আস্তে কেটে যাবে। ওর সাথে বন্ধুত্ব বেশ ভালোই জমে উঠেছিলো পল্লবের। ফোনে কথা, দু একবার কফি খাওয়ার ফাঁকে রাজনীতি থেকে রবীন্দ্রনাথ , ফ্রয়েড থেকে ডারউইন সবই উঠেছিলো ওদের গল্পে। তর্ক বিতর্কে সৃজনী ভালোই বুঝেছিলো, পল্লবের সাথে ওর মানসিক মিলটাই বেশি, অমিল খুব সামান্যই, কিন্তু যেটা ওর বিরক্ত লাগতো সেটা হলো সব থাকা সত্ত্বেও ছেলেটা যেন বড্ড সংকোচে ভোগে। নিজেকে যেন মিশিয়ে ফেলতে চায় মাটিতে। সৃজনী কয়েকবার বলেওছিল, পল্লব হীনমন্যতায় ভোগাটা কিন্তু মানসিক রোগ, প্লিজ তুমি নিজেকে এতটাও ছোট কোরো না যাতে আমার খারাপ লাগে। তবুও কাটেনি পল্লবের দ্বন্দ্ব। নিমন্ত্রণ পত্র ছাপানোর পরেও পল্লব বলেছিল, সৃজনী তুমি কিন্তু বেটার ছেলে পাবে, কেন জানি না মনে হচ্ছে আমি তোমার যোগ্য নই। আমি হয়তো বোঝাতে পারছি না, কিন্তু একটা অপরাধবোধে ভুগছি আমি। 
সৃজনী কার্ডের কোণের হলুদ ছুঁয়ে বলেছিল, আজ কলিগদের ইনভাইট করতে বেরিয়েছি, তোমার এসব উরণচন্ডীগিরি বন্ধ কর প্লিজ। যখন বুড়ো হবো, ছেলে মেয়েদের সামনেই বলবো, তোদের বাবা বিয়ের আগের মুহূর্তেও আমায় রিজেক্ট করতে চেয়েছিল।চোখ নামিয়ে নিয়েছিল পল্লব, আর কিছু বলেনি, বলতে চাওয়া কথাগুলো যেন অনেক কষ্টে গলার কাছে আটকে রেখেছিলো ও। 
এদিকে তরতর করে এগিয়েছিলো দুই বাড়ির বিয়ের প্রস্তুতি। সৃজনীকে ঘিরে ছিল অদ্ভুত এক লজ্জা মেশানো খুশির অনুভূতি। 

সিনি ফোনটা ভাইব্রেট করছে রিসিভ করছিস না কেন রে?
মায়ের কথায় সম্বিত ফিরে পেল সৃজনী। ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশের অসহিষ্ণু গলাটা শুনতে পেল সিনি। কি ব্যাপার সৃজনী, অন্তত বারোটা কল করেছি, ফোনটা কেন রিসিভ করছো না? আমি তোমার বাড়ির সামনে গাড়ি নিয়ে আধঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি। 
দেবমাল্যকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই সৃজনী বললো, বেরোচ্ছি। বাড়িতে এলে না কেন?
দেবমাল্য তাচ্ছিল্যের গলায় বলল, বন্ধু হিসাবে আর ওই বাড়িতে এন্ট্রি নেব না বলে যাইনি সৃজনী। 
সৃজনী কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে এলো রাস্তায়। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে দেবমাল্য, ওর সাথে পরিচয় হয়েছিল মাস ছয়েক আগেই। তখন থেকেই বন্ধুত্ব। ডিভোর্সের পর মানসিকভাবে বেশ কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ও। তখন দেবমাল্যই বন্ধুত্বের হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। সৃজনীও ধরতে দ্বিধা করেনি, একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধুর বড্ড প্রয়োজন ছিল ওর। কিন্তু সৃজনী ইদানিং খেয়াল করেছে দেবমাল্য যেন ওকে নিয়ে একটু বেশিই পজেসিভ। সৃজনীর জীবনের সব ঘটনা শোনার পরেও দেবমাল্য বলেছিল, যদি নিজের পাস্ট ভুলে আমার কাছে আসতে পারো তাহলে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটা বদলে গিয়ে আরও গাঢ় সম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারি আমরা। উত্তর দেয়নি সৃজনী। দেবমাল্যকে ওর বেশ ভালোই লাগে। কিন্তু পুরোনো ক্ষতটা মাত্র এক বছরে যে শুকিয়ে যায়নি সেটা বুঝতে পেরেছিল যখন দেবমাল্য বিবাহ নামক বন্ধনে বাঁধতে চাইছিলো ওকে। ভিতর থেকে কেউ একটা আঁতকে উঠে বলেছিল, আবার বিয়ে! না থাক, এই বেশ ভালো আছি। 
দেবমাল্য বিরক্ত হয়ে বলেছিল, কি ভাবছো সৃজনী? কেন তোমার সাথে পল্লবের ডিভোর্স হয়েছিল, সেটা নিয়ে কাটাছেঁড়া করবো আমি? ভুল ভাবছো। আমার কাছে আজকের সৃজনীর উপস্থিতিই এনাফ। তার পাস্ট ঘাঁটতে যাবার মত শখ নেই আমার। আমি এই সৃজনীকেই ভালোবাসি। যে মানুষ হিসাবে ভীষণ সৎ, কখনো একটু ছেলেমানুষি আবেগে ভাসে, নিজের কোরিয়ার নিয়ে সচেতন, প্রখর আত্মসম্মান নিয়ে মেরুদন্ড সোজা করে বাঁচা সৃজনীটাকেই আমি মনে থেকে রেসপেক্ট করি। 
দেবমাল্য কেরিয়ার সচেতন ছেলে, তবে কেয়ারিংও। সৃজনী এই কয়েকমাস ওর সাথে মিশে এটুকু ফিল করেছে, দেবমাল্য ওকে ভালোবাসে। সৃজনী বাসে কিনা প্রশ্নটা যতবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ততবারই পল্লবের মুখটা ভেসে উঠছে দৃষ্টিপথে। তারপরেই ভালোবাসা, বিয়ে, সম্পর্ক এই শব্দগুলোকে খুব সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছে সৃজনী। 
গাড়িতে উঠতেই দেবমাল্য বললো, পল্লব দাস শুনলাম রেপ কেসের আসামি হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে? তুমি কিছু জানো?
সৃজনী আনমনে বললো, পল্লব রেপ করতে পারে না বলেই আমার বিশ্বাস। 
দেবমাল্য বিরক্ত হয়ে বলল, সৃজনী একটা কথা ভুলে যেও না পল্লব তোমার পাস্ট। তোমাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। আর আমি তো ওটাকে নামে মাত্র বিয়ে বলবো। শুধু সিঁথিতে সিঁদুর দিলেই কেউ স্বামী হয়ে যায় না। তাই আমি চাইনা, তুমি এই কেসের ব্যাপারে জড়াও। প্লিজ সৃজনী, আমার সম্মানের কথা ভেবে পল্লব দাসের কোনো ব্যাপারে তুমি আর থেকো না। 
দেবমাল্যর গলাটা কাঁপছে। সৃজনীর হাতের ওপরে একটা হাত রেখে বললো, আই রিয়েলি লাভ ইউ সিনি। প্লিজ আমাকে এক্সসেপ্ট করো। পাস্ট নয়, ফিউচারের দিকে তাকাও। 
কেঁপে উঠলো সৃজনী, পুরুষের স্পর্শ বুঝি এমনই হয়। ওর ডান হাতের অনামিকার রুবিটা লাজুক হেসে বললো, হ্যাঁ এমনই হয়। অদ্ভুত একটা নির্ভরতা ছুঁয়ে গেল সৃজনীকে। 
সৃজনী ধীর গলায় বলল, আমাকে আরেকটু সময় দাও দেবমাল্য। 
দেবমাল্য হাসি মুখে বললো, পল্লবকে ভুলতে? বেশ সময় নাও। দেখো, আমার অপেক্ষার কালটা এতটাও দীর্ঘ করে দিও না, যে পল্লবকে ভুলতে গিয়ে আমাদের সম্পর্কের সুতোটাই কেটে যায়!
বেনারসী, সিঁদুরের বাইরেও কিন্তু বিয়ে হয়, দুটো মনের মিলন হয় সৃজনী, তাই আমি কোনোভাবেই চাইনা, পল্লবের কোনোরকম ভুলভাল কাজের দায় তোমার ওপরে এসে পড়ুক। মিডিয়া বড্ড বিপদজনক জিনিস, সেটা অবশ্য তুমি আমার থেকে বেটার জানবে সৃজনী। 
সৃজনীর ভালো লাগছে দেবমাল্যর এই কেয়ারিং মনোভাবটা। বাবা, মা ছাড়া ওকে নিয়ে আর কেউ ভাবে এই পৃথিবীতে ভেবেই চোখের পলকগুলো ভারী হয়ে উঠলো ওর। 
সৃজনী বললো, বেশ, তুমি যখন চাও না, তখন পল্লবের কেসের ব্যাপারে আমি থাকব না। কথা দিলাম।
দেবমাল্য গাড়ির স্পিডটা আরেকটু বাড়িয়ে বললো, উড়ে যাব, তোমায় নিয়ে উড়ে যাব এমন একটা পৃথিবীতে যেখানে এখনো অতীতের ধূসরতা প্রবেশ করতেই পারেনি। আমরা নিজেদের মত একটা পৃথিবী গড়বো সৃজনী। 
সৃজনী বুঝতে পারছিল, দেবমাল্যর সঙ্গে বন্ধুত্বটা ক্রমশ একটা পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। 

ওকে অফিসে নামিয়ে দিয়েই দেবমাল্য ছুটলো নিজের অফিসে। যাওয়ার সময় বলে গেল, ফ্রি হলে কল করো। 
দেবমাল্যর গলার উষ্ণতাটা আবারও স্পর্শ করলো সৃজনীকে। অফিসের লিফটে দাঁড়িয়েই সিদ্ধান্ত নিলো, ফিরিয়ে দেবে না দেবমাল্যকে। ওকে নিয়ে গড়ে তুলবে ওর না গড়তে পারা ভাঙা ঘরের চালটা। বাবা, মায়ের মুখেও হাসি নেই ওর ডিভোর্সের পর থেকে। বাবা সর্বদা নিজেকে দোষী ভাবে মেয়ের জীবনটা নষ্ট হওয়ার জন্য। মা আর সুগন্ধা মাসির মধ্যে কবেই সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে। মাকে দিনরাত বলতে শোনে.. কারোর তো কোনোদিন ক্ষতি করিনি, তারপরেও কেন আমার সিনির সাথেই এমন হলো?
সিনি অবশ্য কাউকে দোষারোপ করে না। পল্লবদের বাড়ির সকলে সিনিকে নিজেদের মেয়ের মতো ভালোবেসেছিল। পল্লবের মা তো সিনি অফিস বেরোনোর সময় টিফিনটা অবধি গুছিয়ে দিয়েছিল ওই দুটো সপ্তাহ। 
তিনটে মাস বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যে মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ ছিল সৃজনী ওদের বাড়িতে, একদিনও কারোর কাছ থেকে এতটুকু খারাপ ব্যবহার পায়নি। 
পল্লব তো বিয়ের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বলেছিল, সৃজনী প্লিজ, আরেকবার ভাবলে হতো না? কেন জানিনা মনে হচ্ছে আমি ভুল করছি। 
ঠিক এই কারণেই বোধহয় সিনির এতটা ভাল লেগেছিল পল্লবকে। বিয়ের পর পল্লবই ভোরে উঠে সিনিকে বেড টি দিয়ে বলতো, এই যে ম্যাডাম, উঠে পড়ুন। অফিসের লেট হবে যে!
পল্লব আর ওর পরিবারকে নিয়ে বেশ ভালোই কেটেছিল ওই সময়টুকু। ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত ওদের দুজনেরই ছিল। যদিও সৃজনীর বাড়ির লোকজন ভাবে পল্লবের মত ছেলেকে ডিভোর্স করাটা অত্যন্ত অন্যায় কাজ। এরকম একজন ভদ্র, নম্র ছেলেকে কি করে যে সৃজনী ডিভোর্স দিলো সেটাই সকলের বিস্ময়! সৃজনী অবশ্য সকলকেই বলেছিল, পল্লব সত্যিই খুব ভালো ছেলে, ওরই সমস্যা হচ্ছিল অ্যাডজাস্টমেন্টের। আজও দুই বাড়ির কেউ জানে না কেন ও পল্লবকে ডিভোর্স দিয়েছে। 
পল্লব নিজেও সকলকে একই কথা বলেছে, সৃজনী ভীষণ ভালো স্বভাবের মেয়ে, পল্লব ওকে ডিজার্ভ করে না। 
আসল কারণটা আজও সকলের কাছে অজানাই রেখে দিয়েছে ওরা দুজনেই। 
অফিসে ঢুকতেই স্যার বললেন, পল্লব দাসের রেপ কেসটা নিয়ে নিউজ করতে চাই, সৃজনী তুমি করলে ব্যাপারটা রিয়ালেস্টিক হতো। দেখো ওই লোকটা তোমার জীবন নষ্ট করেছে, এই তো সুযোগ তার নামে ভরা জনতার মধ্যে তোমার কিছু বলার। 
সৃজনীর কানের কাছে বাজছিল দেবমাল্যর কথাটা, প্লিজ, এসব ঝামেলায় তুমি জড়াবে না। 
কানের কাছে আরেকটা শব্দের অনুরণন হলো, পল্লব আমরা বন্ধু হয়ে থাকতে পারি না? না, সৃজনী, আমি চাইনা আমার জীবনে তোমাকে জড়িয়ে রাখতে, তুমি মুক্ত, নিজের মত করে বাঁচ। তবে যদি সত্যিই বন্ধু ভাব.. কখনো প্রয়োজন হলে পল্লব বলে হাঁক দিও, সামর্থ মত সাহায্য করবো তোমায়।
স্যার আমি পল্লব দাসের সাথে মিট করতে চাই, তারপর রিপোর্টটা সাজাবো। 
আপনাকে একটা পারমিশনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। 
পল্লবের কেসটা আগামী কাল উঠবে কোর্টে, আজ বোধহয় পুলিশ হেফাজতে আছে। বেশ, ব্যবস্থা করছি দেখা করার। 
রিপোর্টারের স্পেশাল কার্ড নিয়ে সৃজনী ঢুকলো পল্লবের সাথে দেখা করতে। 
চোখে সেই উদাসীন চাউনি, ঠোঁটের কোণে একরাশ কষ্ট। 
সৃজনীকে দেখে চমকে উঠে বললো, তুমি? কিন্তু আমি তো আমার উকিলকে বলেই দিয়েছি, সৃজনীর সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই, তাই তাকে যেন হ্যারাজ না করা হয়। তারপরেও কি তোমায় ওরা বিরক্ত করছে সৃজনী?
সৃজনী পল্লবের চোখের দিকে স্ট্রেট তাকিয়ে বলল, রেপটা কি তুমি করেছ?
পল্লব চোখটা নিচু করে বললো, তুমি এখান থেকে চলে যাও সৃজনী, প্লিজ। 
সৃজনী নরম গলায় বলল, তোমার জীবন থেকে তো আমি চলেই গিয়েছিলাম পল্লব, তারপরেও কি গোছাতে পেরেছ নিজের জীবনটাকে? সেই তো এলোমেলো করে ফেললে। 
পল্লব বললো, প্লিজ তুমি এসব কাদা ছোঁড়াছুড়িতে থেকো না। সৃজনী দৃঢ় গলায় বলল, এখনও সত্যিটা স্বীকার করবে না তুমি? কিন্তু কেন? সমাজ তোমায় কি চোখে দেখবে সেটা বড় কথা, নাকি নিজে ভালো থাকাটা বড় কথা পল্লব? সত্যিটা তুমি উকিলের কাছে বলো, ওনার কেস সাজাতে সুবিধা হবে। প্লিজ পল্লব, সত্যিটা বলো। আমাদের বিয়ের আগেই যদি সত্যিটা বলতে তাহলে ডিভোর্সি নামক শব্দটা আমার নামের আগে বসত না, তাই না? 
পল্লব চোখটা বন্ধ করে বললো, কতটা চেন তুমি এই সমাজকে? কতটা চেন চারিদিকের লোকজনকে? তুমি জানো সত্যিটা প্রকাশ পেলে আমার পজিশন কি হবে?
সৃজনী হেসে বললো, রেপিস্ট পরিচয়টা বুঝি খুব গর্বের?
পল্লব মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, জানিনা, তুমি চলে যাও। 
আমায় একটা স্টোরি করতে হবে তোমায় নিয়ে। কয়েকটা তথ্য দরকার, প্লিজ হেল্প মি। 
পল্লব নির্বিকার ভাবে তাকিয়ে বলল, বলো কি জানতে চাও....

ধীর পায়ে পুলিশ কাস্টডি থেকে বেরিয়ে এলো সৃজনী। চোখের কোণে মেঘের আনাগোনা, বৃষ্টি হবার পূর্বাভাষ যেন। 
কিছুক্ষনের মধ্যেই দেবমাল্যর ফোন, সৃজনী তুমি কোথায়? 
সৃজনী শান্ত অথচ দৃঢ় স্বরে বললো, দেবমাল্য আমি পল্লবের সাথে দেখা করতে এসেছি। কথা না বলে ফোনটা আচমকা কেটে দিলো দেবমাল্য। 
সৃজনী ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলো অপলক। 
'প্রথম আলোর' নিউজটা নিজের দায়িত্বে লিখে যখন বাড়ি ফিরল সৃজনী, তখন ঘড়ির কাঁটাদুটো প্রতিযোগিতা না করে ড্র ম্যাচের মত বারোর ঘরে এসে থমকে রয়েছে। 

আগামীকাল কেসটা উঠবে কোর্টে, সৃজনী অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলো ও থাকবে কোর্টে। লাবণ্য সরকার মেয়েটাকে সামনে থেকে দেখার ইচ্ছাও আছে ওর। 
দেবমাল্যকে সকাল থেকে বার তিনেক ফোন করেছিল সৃজনী, ফোনটা হয়তো ইচ্ছে করেই রিসিভ করেনি ও। 
দেবমাল্যর দোষ নেই, ও বারবার নিষেধ করেছিল সৃজনীকে। আকাশের এক কোনে সদ্য ওঠা রামধনুটাকে চোখের সামনে ধূসরবর্ণ  ধারণ করতে দেখছিলো সৃজনী। ওর আর দেবমাল্যর মিষ্টি সম্পর্কের ইতি হয়ে যাচ্ছিল দেখেও নিরুপায় ও। এই মুহূর্তে যদি পল্লবের পক্ষে না দাঁড়ায় তাহলে চোখের সামনে প্রমাণের অভাবে একটা মিথ্যে সত্যি হয়ে দাঁড়াবে। দেবমাল্য হয়তো ভাবছে ও পল্লবকে এখনো ভালোবাসে, তাই দূরে ঠেলে দিলো সৃজনীকে। কিন্তু মানুষ হিসাবে এই সময় পল্লবের পাশে দাঁড়ানোটা ভীষণ জরুরী। 
'প্রথম আলোর' দ্বিতীয় পাতায় আজ সকলেই পড়বে পল্লব দাসের নিউজটা। পল্লবের বারণ সত্ত্বেও নিউজটা রেডি করেছে সৃজনী। 
কিছু সত্যকে গোপন করতে চাইলে জটিলতা বাড়ে বৈ কমে না। পল্লবের জীবনটাও তাই, ও সত্যের মুখোমুখি হতে যত ভয় পেয়েছে তত জালে আবদ্ধ হয়েছে। 

কোর্ট রুমে ঢুকতেই পল্লবের মায়ের সাথে মুখোমুখি হলো সৃজনী। ওর মা সিনির হাত দুটো ধরে বলল, তুইও তো ওর সাথে ছিলি কয়েকটা দিন, তোর মনে হয় পল্লব এরকম ঘৃণ্য কাজ করতে পারে!
সিনি মাথা নেড়ে বললো, আমি বিশ্বাস করি না। তুমি বসো আন্টি। 
লাবণ্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পল্লবের উকিল বললো, ঠিক কবে থেকে আপনি বসের ওয়াইফ হবার স্বপ্ন দেখছিলেন? ঠিক কবে থেকে বুঝলেন মিস্টার পল্লব দাস আপনার বিষয়ে একেবারেই আগ্রহী নন?
লাবণ্য প্রশ্নগুলো শুনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। তার আগেই পল্লবের উকিল আক্রমণাত্মক স্বরে বললো, আপনি যে মিথ্যে দোষারোপ করেছেন সেটা আপনি জানেন, আপনার শরীরে কোনোরকম চিহ্ন না থাকা সত্ত্বেও আপনি দোষারোপ করেছেন, ডক্টরের রিপোর্টগুলো পর্যন্ত সাজানো। যে চিহ্নগুলো দেখিয়েছেন সেগুলো আপনার নিজের তৈরি মিস লাবণ্য। 
লাবণ্য বেশ জেদের সাথেই বললো, পল্লব দাস বহুদিন ধরেই আমায় প্রোপোজ করছেন, আমি রাজি হয়নি বলেই উনি ওইদিন জোর করে....
ওকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই লাবন্যর উকিল অবজেকশনের আবেদন জানালো। তার মক্কেলকে নাকি হ্যারাজ করা হচ্ছে। সে মানসিক ভাবে এমনিতেই বিদ্ধস্ত।
এরপরেই পল্লবের উকিল কাঠগড়ায় ডাকলো পল্লবের এক্স ওয়াইফ সৃজনীকে। 
বলুন মিস সৃজনী, আপনার সাথে ঠিক কি কারণে ডিভোর্স হয়েছিল পল্লব দাসের? আপনি কি বুঝতে পেরেছিলেন আপনার এক্স হাজবেন্ডের চারিত্রিক দোষ আছে?

চায়ের কাপ হাতে 'প্রথম আলোর' দ্বিতীয় পাতায় চোখ রাখলো দেবমাল্য। সৃজনীর নিউজটা চোখে পড়লো। 
হোমোসেক্সুয়াল হওয়া কোনো অপরাধ নয়। 
পল্লব দাস- হাইট পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি, সুদর্শন, প্রতিষ্ঠিত পুরুষ। যার চালচলন সমস্ত পুরুষের মত হলেও মনে মনে সে একজন নারী। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তার আকর্ষণ একজন পুরুষের প্রতি। নারী বিদ্বেষী তিনি নন। তিনি অত্যন্ত সম্মান করেন নারী শরীরকে, কিন্তু অপজিট সেক্সের প্রতি তার বিন্দু মাত্র আকর্ষণ নেই। তার এক্স ওয়াইফ জানিয়েছেন, বিয়ের পর একই বিছানায় শুয়ে থেকেও কোনোরকম যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি তাদের মধ্যে। পল্লব দাসের এই স্বভাবের জন্যই তিনি বিয়ে করতেও চাননি, কিন্তু এক অদ্ভুত লজ্জার বশবর্তী হয়েই এই সত্য তিনি কোনদিনও কারোর কাছে প্রকাশ করেননি। তার এক্স ওয়াইফের দৃঢ় ধারণা পল্লব দাস আর যাই করুন, কোনো মহিলাকে রেপ বা মলেস্ট করতে পারেন না। কারন মহিলা শরীরের প্রতি ওনার কোনো আকর্ষণ নেই। 
পল্লবের জীবনের একমাত্র ভালোবাসা ওর স্কুলের বন্ধু সৌগত। সৌগতও সেটা জানে কিন্তু সমাজের নিন্দার ভয়েই ওরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করার ব্যর্থ চেষ্টা করে চলেছে। আইনি ভাবে হোমোসেক্সুয়ালিটি পাশ করে গেলেও সমাজের চোখে আজও তা ব্যঙ্গ বিদ্রুপের পর্যায়ে পড়ে, তাই ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন পল্লবদের মত ভদ্র মানুষরা। 
সৃজনী জানিয়েছেন, বিয়ের কয়েকটা দিন পরেই পল্লব সব সত্যিটা স্বীকার করেছিলেন এবং ডিভোর্স করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিয়েটাও সৃজনী পল্লবের মতের বিরুদ্ধেই করেছিলেন। সৃজনী বলেছেন, লাবণ্য সরকার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যে দোষারোপ করছেন। 

দেবমাল্য কোনোমতে ড্রেস চেঞ্জ করে গাড়িটা নিয়ে ছুটলো কোর্ট রুমের দিকে। এসময় সৃজনীর পাশে থাকা উচিত। দেবমাল্য আগে তো সৃজনীর বন্ধু, তাই এসময় ওর হাত ছাড়াটা নিতান্ত অন্যায় হয়েছে ওর। 

ওদিকে 'প্রথম আলো'র দ্বিতীয় পাতাটা বন্ধ করলেন রঞ্জন বাবুও। ধরা গলায় বললেন, বুঝলে সিনির মা, মেয়েটা ঠিক কবে এতটা বড় হয়ে গেল বলতো? কবে থেকে নিজের দুঃখ, কষ্টগুলো লুকিয়ে রাখতে শিখল? আমরা দুজন ওকে জন্ম দিয়েও বুঝতে পারলাম না ও এই একবছর ধরে একটা ভারী পাথরকে বুকে নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে? আজ মেয়েটা বাড়ি ফিরলে সেই ছোটবেলার মত ওর মাথায় বিলি কেটে দেব বুঝলে, ওইটুকু মাথায় এত ভার বইছিল যে মেয়েটা। কাগজটা স্ত্রীর দিকে এগিয়ে দিয়ে ধীর পায়ে নিজের ঘরে ঢুকে গেলেন রঞ্জন বাবু। 

সৃজনী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উকিলকে সবটুকু বলার পরে বললো, লাবন্যর দেওয়া সমস্ত রিপোর্ট আরেকবার খুঁটিয়ে দেখার আর্জি জানাচ্ছি। সম্ভবত সেটাই ঠিক করে দেখা হয়নি, বা ফাঁক রয়ে গেছে। রেপ হয়েছে কিনা সেটাই যখন প্রমান সাপেক্ষ....আমি চাই পল্লব মানহানির মামলা করুক লাবণ্য সরকারের বিরুদ্ধে। 
পল্লবের চোখে জল। নিজের চুলের মুঠি ধরে বসে আছে ও। লাবণ্য ধীরে ধীরে বললো, হ্যাঁ, আমি ভালোবাসি পল্লবকে। বহুবার বলেছি সে কথা। কিন্তু স্যার বারবার অপমান করে সরিয়ে দিয়েছিল আমায়। তাই সেদিন আমিই জোর করে স্যারের সাথে মিট করতে যাই....

 কয়েক দিনের মধ্যেই এই কেসের ভারডিক্ট শোনাবে বলে জানালো আদালত। আপাতত বেল পেলো পল্লব। 
দেবমাল্যকে দেখে সৃজনী বললো, সরি। 
পল্লব এগিয়ে এসে বললো, সবটা কেন ওপেন করে দিলে সৃজনী, লোকে ঠাট্টা করবে, অফিসে হাসাহাসি করবে...
সৃজনী বললো, তুমি বড্ড ভালো মানুষ পল্লব, তোমারও বাঁচার অধিকার আছে। দেখো ঐদিকে তাকিয়ে, সৌগত দাঁড়িয়ে আছে তোমার জন্য। 
এভাবে লুকিয়ে বাঁচা যায়না। তুমি কোনো দোষ করোনি পল্লব, সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নিজের মত বাঁচ। 
সৃজনী বেরিয়ে এলো দেবমাল্যর সাথে। 
দেবমাল্যর দিকে তাকিয়ে বলল, এরপরেও আপন করে নেবে আমায়? দেবমাল্য ওর হাতটা ধরে বললো, এমন মনের মানুষ পাওয়া যে বিরল সিনি। তোমাকে হারাই কি করে? নিজের স্ক্যান্ডালের পরোয়া না করে তুমি আজ একজন মানুষের কাজ করেছ, এরপরেও যদি তোমার পাশে না দাঁড়াই তাহলে তো...
সৃজনী নরম হেসে বললো, পল্লব মানুষ হিসাবে সৎ, কিন্তু বড্ড ভীতু। 
দেবমাল্য সৃজনীর হাতটা আলতো করে ধরে বলল, আমি মানুষ হিসাবে ভীষণ হিংসুটে, মূল্যবান জিনিসকে কিছুতেই ভাগ করতে পারিনা। একচ্ছত্র অধিকারে আগলে রাখতে চাই তাকে। তার মনের রাজ্যের আমিই হবো রাজাধিরাজ। আবার কখনো তার পায়ের কাছে বসে ভিক্ষে চাইবো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এমন হিংসুটে মানুষকে নিয়ে পারবে গড়তে তোমার ঘর, সৃজনী?
সিনি বললো, আমি যে ঘরটা গড়বো ভেবেছি, তার দেওয়ালটা থাকবে বিশ্বাসের, ছাদে থাকবে ভরসার ডিস্টেমপার, মেঝেতে থাকবে একরাশ আদর, আর ভীতটা তৈরি করব ভালোবাসা দিয়ে। 
দেবমাল্যর গাড়িটা ছুটছে কালো রাস্তার বুক চিরে, একমুঠো বসন্ত বাতাস এসে এলোমেলো করে দিচ্ছে সৃজনীর গোছানো চুলগুলো। 
দেবমাল্য একহাত দিয়ে সৃজনীর চুলগুলো কপাল থেকে সরিয়ে দিয়ে বললো, ভালোবাসি...ভালোবাসি...
সমাপ্ত

রাকেশ ঘোষাল

Comments

Popular posts from this blog

গ্রীষ্মের_ছুটিতে ছাত্রের লেখা খোলা চিঠি