ইগো

 

সকাল থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছে রচনা। অপেক্ষার মুহূর্তগুলো বড় দীর্ঘ হয়। সেকেন্ডের নয়, ঘন্টার হিসেবে কাটে এক এক পল। 

বারবার msg ঢুকছে ওর হোয়াটসআপে। শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা। কেক, চকলেট, ফুলের ছবিও পাঠাচ্ছে ভার্চুয়াল দুনিয়ার বন্ধুরা।

ফোনটা বাজছে ....তবে কি শেষ হলো রচনার ভোর থেকে প্রতিক্ষাটা।  

না, ওর প্রার্থিত ফোনটা নয়। এটা অনিকের ফোন। 

হ্যাপি বার্থ ডে বেবি। লাভ ইউ সোনা। বলো, আজ কি গিফ্ট চাও। আজ অফিস ছুটি নিয়েছি ...

শুধু আমার সোনার জন্মদিন বলে। 

অনিকের সাথে রচনার সম্পর্কটা হয়ে গেলো প্রায় বছর পাঁচেক। 

দুই বাড়িতেই সবাই জানে, বিয়েতে অমত নেই কারোর। শুধু রচনাই একটু দেরি করছে, ওর PHDটা কমপ্লিট করার। 

অনিকের মত ভালো ছেলে সত্যিই খুব কম আছে। রচনার সব না বলা কথা যেন অনিক ম্যাজিক করে বুঝে নেয়। অনিক বলে, আমি তোমার মনের কথা পড়তে পারি না শুধু চোখের কথাগুলো আমার কাছে এসে ধরা দেয়।

ছোট্ট একটা উত্তর দিলো রচনা, একটু পরে জানাচ্ছি অনিক, আজকের প্রোগ্রামটা। 

অনিক ফোনেতেই  অনেকগুলো কিস করে রেখে দিল।

আজ যেন অনিকের ফোনটা রচনার কষ্টটাকে কিছুতেই লাঘব করতে পারছে না। হয়তো অনিকও বুঝেছে, তাই আর কথা না বাড়িয়ে চুপ করে রেখে দিল। হয়তো একা থাকার সুযোগ করে দিলো রচনাকে। 

মা সকাল সকাল উঠে, স্নান সেরে মেয়ের দীর্ঘায়ু কামনায় মন্দিরে ছুটেছে পুজো দিতে। একটু পরেই হয়তো পায়েসের গন্ধে বাড়ি মেতে উঠবে। মাও নিশ্চয় আজ স্কুল ছুটি নিয়েছে। গতকাল বলছিল, অনিককে নিমন্ত্রন করার কথা। বাড়িতেই একটু ভালোমন্দ রাঁধবে আজ। 

রচনা কোনো উত্তর দেয়নি মায়ের কথার।

মনটাকে অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করে চলেছে। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে ....এখনো কি তার মনে পড়লো না আজকের ডেটটার কথা? এতটা ভুলে যেতে পারলো? অভিমানী কষ্টগুলো বিন্দু বিন্দু করে জমতে শুরু করেছে রচনার মনের প্রকোষ্ঠে।

মায়ের দেওয়া নতুন সালোয়ারটা দুবার নাড়াচাড়া করলো রচনা। খুব মিষ্টি দেখতে। অনিকের প্রিয় রং সাদা, সালোয়ারটাও সাদা রঙের । 

হঠাৎ অনিকের সাথে প্রথম পরিচয়টা মনেপড়ে গেলো রচনার।

ভিড় বাস, তিল ধরানোর জায়গা নেই। অনিকের ভারী শু পরা একটা পা রচনার পায়ের বুড়ো আঙুলের ওপরে ....

রচনা অনিকের পিঠে ঠেলে বলেছিলো, দাদা !একটু সরে দাঁড়ান। বেশ তো লোকের পায়ের উপর নিজের দশমনা পাটা রেখে দিয়েছেন !!

অনিক পাটা সরিয়ে নিয়ে সরি বলার জায়গায় বললো, এই ভিড় বাসে আপনি আমার কি সুখ স্বাচ্ছন্দ দেখলেন??

রচনা রেগে গিয়ে বলেছিলো, অভদ্র লোক ! ক্ষমা চাইতে জানেন না?

অনিক হাসি মুখে বললো, কোনটার জন্য ক্ষমা চাইবো ? আমার জুতোর ওজন বেশি ...সেটা শ্রীলেদারসের দোষ। এই বাসে কেন এত লোক তুলেছে ...সেটা কন্ডাক্টারের দোষ। আপনি কেন আমার পায়ের নিচে পা রেখেছেন... সেটা আপনার দোষ। আচ্ছা ম্যাডাম আমার দোষটা ঠিক কি বলুন তো?

এটাই কি আমার দোষ যে, আপনার পায়ের আঙুলগুলো তুলোয় মুড়িয়ে দিইনি !!

রচনার মাথায় তখন আগুন জ্বলছিল।  মাধবী টের পেয়েই বললো, রচনা ওসব অভদ্র লোকের সাথে আর কথা বলিস না। 

বেল বাজছে, বোধহয় মা এলো।

দরজাটা খুলে দেখলো, মা নয় মানদামাসি ঢুকলো। 

ঢুকেই বললো, ও রুনি দিদি তোমার তো আজ জম্মদিন গো, আমি তাই তোমার জন্য এইটা এনেছি। দুটো গাছপাকা আম ধরিয়ে দিল রচনার হাতে।

আশ্চর্য! বাড়ির কাজের মানুষটাও মনে রেখেছে ওর জন্মদিনের কথাটা, শুধু সে ছাড়া। 

অপেক্ষারও একটা নির্দিষ্ট কাল আছে। দীর্ঘসময় অপেক্ষায় ধৈর্য্য হারায়। 

মা এসে যদি প্রসাদ দিতে গিয়ে দেখে, এখনো রচনার স্নান হয়নি তাহলে চিৎকার শুরু হবে।আরেকবার ফোনটার দিকে তাকিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলো ও।


বড় হলে ভর্তি লোক। কাঠের জাফরীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটা বছর নয়ের মেয়ে। লাল সাদা ফ্রক পরে। মা, আমি যাব না ওখানে। ওখানে গেলেই পুলিশ ধরবে আমাকে!!

ভয়ে কাঁপছে ছোট্ট মেয়েটার পাতলা ঠোঁট দুটো। বাবা বলছে কেউ কিছু বলবে না রুনি। বাবা আছে না! 

মা হাতটা ধরে টেনে নিয়ে গেলো বাবার কাছ থেকে। শোন রুনি, ঐ লোকটা কেউ না আমাদের।তোকে যদি জিজ্ঞেস করে তুই কার কাছে থাকতে চাস? তুই বলবি মায়ের কাছে। 

কি বলবে রুনি? কেন বলবে ?

তাহলে কে ওকে রোজ বিকালে গাড়ি চাপাবে? কে ঘুম থেকে তুলে বলবে, আমার পাকা বুড়ির জন্য একটা এত্ত বড় চকলেট আছে !!

শুধু ভয়ে ভয়ে জানতে চেয়েছিলো , তাহলে বাবা কোথায় থাকবে মা?

মা অংকে ভুল হলে যেমন বকে, ওরকম বকে বলেছিলো ....সেটা তোমার না জানলেও চলবে!

কালো কোট পরা লোকটা জানতে চেয়েছিলো, তুমি কার কাছে থাকতে চাও রুনি ?

বাবা না মা ?

রুনি বলতে পারছিল না ...দুজনের কাছেই থাকতে চায় ও। ওর বাবা মা তো একবাড়িতেই থাকতো এতদিন ....তাহলে !! ছোট্ট মনের হাজার প্রশ্নের উত্তর দেবার মত কাউকে পায়নি ও। শুধু মায়ের শেখানো বুলি আউরে গিয়েছিলো। মায়ের মুখটা কোর্ট রুমে উজ্জ্বল হয়েছিল, আর বাবা মাথা নিচু করে জুলজুল করে তাকিয়েছিল তার একমাত্র সন্তানের দিকে।

রচনা আজও জানে না বাবা-মায়ের ডিভোর্সটা ঠিক কি নিয়ে!!

বাবা আজও দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। মাও সংসার পাতেনি কাউকে নিয়ে!

শুধু মাঝে মাঝে মাকে বলতে শুনেছে, নিজের কাজ, টাকা আর বইপত্র ছাড়া কবেই বা আমার দিকে তাকিয়েছে! বাবার কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শোনেনি কোনোদিন। বাবা শুধু আক্ষেপ নিয়ে বলছে, তোর মা চিরকাল অবুঝ থেকে গেল। 

হয়তো রুনির কথা ভেবে বা আইনের  নিয়মে রুনির সাথে বাবার মাসে একবার একবেলা ও কাটাতে পারতো। রুনির গোটা মাসটা কাটতো ঐ বিশেষ দিনটার জন্য অপেক্ষা করে। বাবা ওদিন কোনো ফোন পর্যন্ত রিসিভ করতো না। শুধু রুনি আর বাবা। 

ফেরার পর মা রুনীকে দেওয়া বাবার গিফ্টগুলো দেখে জিজ্ঞেস করতো, "তোমার বাবা আমার কথা কিছু জানতে চাইছিল নাকি ?" পরে অবশ্য কলেজ কেটে ও আর বাবা বহুবার বাবার ফ্ল্যাটে চিকেনের প্রিপারেশন ট্রাই করেছে। কখনো চার্লি চ্যাপলিন দেখে দুজনে হেসে গড়িয়ে পড়ছে। সবই মায়ের অজান্তে। 


কিরে তোর হলো? মা বাথরুমের দরজায় নক করছে। 

রুনি তাড়াতাড়ি জামাটা গলিয়ে বেড়িয়ে এলো। 

মা হাতে প্রসাদ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

বাইরে বেরিয়েই নিজের ফোনের স্ক্রিনের দিকে একবার আড়চোখে তাকিয়ে নিলো রুনি। না, কোনো ফোন আসেনি।

বাবার সাথে গতবার বইমেলায় অনিকেরও পরিচয় করিয়ে দিয়েছে রুনি। বাবারও অনিককে খুব পছন্দ। মাঝেমাঝে নাকি অনিককে ফোনও করে বাবা। দুজনের ঠিক নিয়ে আলোচনা হয় সেটা কেউই রুনির কাছে বলতে চায় না। 

রচনা সালোয়ারটা পরে হালকা সেজে নিলো।অনিকের ফোন ...

আমি রেডি ম্যাডাম। বাড়ি থেকেই কি তোমাকে পিক আপ করবো?

মা তোমাকে আজ নিমন্ত্রন করেছে বাড়িতে। অনিক বললো, আন্টিকে বলো, আমি রাতে যাবো ওনার রান্না খেতে। দুপুরে একটা বিশেষ প্রয়োজন আছে।

অনিকের বাইকের পিছনে বসতেই মনে পড়লো,অনিক ওকে ভাব সম্প্রসারণ বলে রাগাতো। 

বলতো রচনা, এসে আর ভাবসম্প্রসারণ ঐ একই হলো। 

কবে যে ওদের ঐ বাসের ঝগড়াটা ভালোবাসায় পরিণত হয়েছিল তা হয়তো ওরাও বোঝোনি। শুধু বুঝেছিল ওরা একে অপরকে ছাড়া অসম্পূর্ণ।

কত কত রাত ওরা ফোনে কথা বলতে বলতে ভোরের পাখির ডাক শুনেছে তার হিসাব নেই। তারপর অনিক অফিসের টেবিলে আর রচনা ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি রুমে ঘুমিয়েছে। 

অনিক, আজ আমরা কোথায় যাবো বলতো?

অনিক বললো, একটু ধৈর্য ধরে চুপটি করে বসে থাকো। 

আর তোমার মনটা আজ এত খারাপ কেন রচনা?

এই হয়েছে এক মুস্কিল। নিখুঁত সাজ, কৃত্রিম হাসিতে মুখটা ভরা থাকলেও অনিকের কাছে রচনা ধরাপড়ে যাবেই। 

রচনা বললো, কিছু না। 

কলকাতার অলি-গলি সব অনিকের নখদর্পনে। কোথা দিয়ে যে বাইক চালাচ্ছে রচনা বুঝতেই পারছে না কোথায় যাচ্ছে ওরা। 

অনিকের গায়ের পরিচিত ডিও আর আফটার সেভ লোশনের গন্ধটা রচনার নাকে এসে ঝাপটা দিচ্ছে। একটা মানুষ শুধু ওর! সম্পূর্ণভাবে ওর, এটা ভাবতেই কেমন যেন অবশ হয়ে আসছে ওর রক্তকণিকাগুলো।

অনিক বললো, যদি আমাকে খুব আদর করতে ইচ্ছে করে করতে পারো। আমার আপত্তি নেই রচনা!!

রচনা বললো, আশ্চর্য ছোটলোক তো তুমি ? আমি কি বললাম তোমাকে .....

না, না মুখে হয়তো বলোনি কিন্তু ....

বাইকটার স্পিড কমে গেছে ...যেখানে দাঁড়ালো সেটা রচনার বাবার  ফ্ল্যাটের সামনে। 

রচনা রেগে গিয়ে বলল, অনিক তুমি আজ আমাকে এখানে কেন আনলে?

জানো, বাবা আজ আমাকে উইশটুকু পর্যন্ত করেনি। সকাল থেকে ফোনের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। 

আমি আজ কিছুতেই বাবার ফ্ল্যাটে ঢুকবো না, তুমি চলো এখান থেকে।

অনিক হেসে বললো, বাবা যদি ভুলে যায় তো তুমি তাকে আজ একটা প্রণাম করে যাবে না রচনা?

আর কথা না বাড়িয়ে দুজনেই লিফটের দিকে পা বাড়ালো। 

একটা প্রণাম করেই ফিরে আসবে রচনা। একমাত্র মেয়ের জন্মদিন যে বাবা ভুলে যায়, তার ফ্ল্যাটে বসে গল্প করার ইচ্ছেটা অন্তত আজ নেই ওর।

বেলটা অনিকই বাজালো ....

দরজা খুলতেই রচনার ইউনিভার্সিটির বন্ধুরা হৈ হৈ করে উঠলো। অনিকের অফিসেরও দুচারজন ক্লোজ ফ্রেন্ড রয়েছে।

গোটা ফ্ল্যাটটা গোলাপ আর বেলুনে সাজানো। 

মাঝখানে টেবিলে একটা বড় সাইজের কেক ...

 লেখা আছে 'হ্যাপি বার্থ ডে...পাখি '

খুব ছোট্টবেলায় বাবা রচনাকে ঐ নামেই ডাকতো। রচনা বলতো, বাবা আমার তো ডানা নেই আমি পাখি হলাম কি করে?

বাবা ওর হাত দুটো পাখার মত মেলে বলতো, এই তো পাখির ডানা। 

চোখ দুটো জ্বালা করছে রচনার। গালে একটু চকলেট লেগে আছে বাবার। আজ হঠাৎ করেই মনে হলো রচনার, একটা মানুষ গোটা জীবনটা একা কাটিয়ে দিল!

বাবা আস্তে আস্তে যেন একটু বুড়ো হয়ে যাচ্ছে, সেই সোজা মেরুদন্ডটা যেন একটু ঝুঁকে এসেছে সামনে। ঝুলপির দিকে বেশ কিছু বয়েস জানিয়ে দেওয়া পাকা চুল তাকিয়ে আছে রুনির দিকে। 

বাবা এসে জড়িয়ে ধরলো রচনাকে। কি রে পাগলী, খুব অভিমান হয়েছে বুঝি? ভেবেছিলিস বাবা তোর জন্মদিনটা ভুলেই গেলো?

আরে আমি আর অনিক তো সাতদিন ধরে রোজ প্ল্যান করেছি আজকের দিনটার। 

তোর পছন্দের সব মেনু ঠিক করেছি আজ লাঞ্চে। তোমার পছন্দের 'কিছুক্ষন' ক্যাটারারের কাছে সব অর্ডার দেওয়া আছে।

গলা দিয়ে কোনো শব্দ বেরুচ্ছে না রচনার।প্রতিবারই এই দিনটাতে মা কিছুতেই বাড়ি থেকে বেরোতে দেয় না রচনাকে। এবারে অনিকের রিকোয়েস্ট-এ এটা সম্ভব হলো। 

বাবার মুখে হাসি যেন উপচে পড়ছে। 

মা যে কেন কাজপাগল মানুষটার মধ্যে এই 

ছেলেমানুষী মনটাকে দেখতে পেলো না!!

রচনার কানের কাছে এসে বাবা বললো, তোর মাকে এসব বলিস না। বাড়ি গিয়ে চুপটি করে মায়ের হাতের পায়েস খেয়ে নিবি। নাহলে মা কষ্ট পাবে! 

অনিক আর বন্ধুরা বলছে , এবার কেকটা কাটা হোক ...আমাদের খিদে পাচ্ছে। 

প্রথম কেকের পিসটা যখন বাবার মুখে খাইয়ে দিচ্ছে রচনা, তখন মায়ের বলা তথাকথিত যন্ত্রমানবের চোখদুটো আনন্দাশ্রুতে পরিপূর্ন। 

কখনো কখনো ভুল বুঝে কেটে যায় একটা গোটা জীবন। জীবনের সাদা পাতা জুড়ে রাজত্ব করে একটা অর্থহীন ছোট্ট শব্দ ...'ইগো'। 

রচনা বললো, বাবা আর কি ফেরা যায় না?

বাবা হেসে বললো, কিছু সম্পর্ক দূরে থাকলেই শান্তি পায়, ঘষাঘষিতে বড্ড আওয়াজ হয় রে। মাকে ভালো রাখিস। জানিস পাখি, একটা জিনিস জীবন দিয়ে বুঝেছি, একবার মিসম্যাচ হলে জীবনটাই শেষ হয়ে যায়। জোড়াতালি দিয়ে জীবন চলে না রে। তাই দূরত্ব শ্রেয়। 

রচনা 'ইগো' নামক অর্থহীন শব্দের দিকে তাকিয়ে বলল, কেন যে তুমি ঢুকে যাও সম্পর্কের মধ্যে?

থাকতে পারো তো শুধুই ডিকশনারির পাতায়। 


রাকেশ ঘোষাল


Comments

Popular posts from this blog

গ্রীষ্মের_ছুটিতে ছাত্রের লেখা খোলা চিঠি