টিউশন



কি রে বাবলু তুই কাঁদছিস কেন? 'স্যার মেরেছে...' বলে পরিত্রাহি চিৎকার করছে বাবলু। বাবলুর মা সাথী বিরক্ত মুখে বললো, মারলে কেন প্রদীপ?
এই মহিলাকে এমনিতেই একটু ভয় ভয় পায় প্রদীপ। মহিলার গলার স্বরে এমন কিছু আছে যাতে ভয় পেতে বাধ্য। তবুও একটু সামলে নিয়ে প্রদীপ বললো, আসলে বৌদি, বাবলু আজ তিনদিন ধরে বিজ্ঞান পড়াটা করছে না। রোজই কিছু না কিছু অজুহাত দিচ্ছে। তাই বিরক্ত হয়ে....
ওর কথাটা শেষ হবার আগেই বাবলুর মা বললেন, আসলে কি বলতো, তোমাদের মত ছেলেদের এই এক সমস্যা। চাকরি-বাকরি পাওনি, টিউশন করেই কাটাতে হবে বুঝেছো, সেই ফ্রাস্ট্রেশনটা স্টুডেন্টের ওপরে মেটাচ্ছ। চমকে উঠেছিল ফিজিক্সে ফার্স্টক্লাস পাওয়া, এমএসসি করা প্রদীপ। মহিলা সম্ভবত গ্র্যাজুয়েট। বাবলুর বাবা নামি কোম্পানিতে কর্মরত। তাই অর্থের কোনো অভাব নেই। এই সাথীদেবী বোধহয় ভাবতে শুরু করেছেন, স্বামীর উপার্জিত অর্থ ওনারই বিদ্যের দান। মুখে অনেকগুলো কথা একসঙ্গে এসে গিয়েছিল প্রদীপের। কোনোক্রমে নিজেকে সামলে নিলো ও। 
বাবলু ক্লাস সেভেনের স্টুডেন্ট। সায়েন্স গ্রুপটা পড়ায় ও। মাস গেলে কড়কড়ে আটশো টাকা গুনে দেয়। তাই কিছু কথা গলার কাছেই আটকাতে হয় কৌশলে। বাড়ি ফিরলেই বাবা-মায়ের সেই একই কথা, এত পড়লি, এত ভালো রেজাল্ট করলি, তাও একটা চাকরি জোগাড় করতে পারলি না। তখন এই বাবলুর হাজার আরও গোটা পাঁচেক টিউশনের টাকা মিলিয়ে হাজার চারেক মায়ের হাতে দিতে পারে ও। ব্যথা নিরাময়ের ওষুধ না হোক, সাময়িক উপশমের মলমটুকু তো হয়। তাই সাথীদেবীর এভাবে অপমান করে বলা কথাগুলো নির্বিবাদে হজম করে নেয় প্রদীপ। বাবলু তখনও কেঁদেই চলেছে। সাথীদেবী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলেই চলেছেন, কোথায় লাগলো? জোরে মেরেছে নাকি রে স্যার? ওমা, স্কেলটা বেঁকে গেছে তো। 
প্রদীপের খুব বলতে ইচ্ছে করছিল, ফাইবারের স্কেল হয় ভেঙে যাবে নয় সোজা থাকবে, বেঁকে যাবে না। ওটা স্টিলের স্কেল নয়। ঐযে চাকরিহীন বেকার, তাই বাকস্বাধীনতাও নির্দিষ্ট স্কেলে বাঁধা। 
এত জোরে মেরো না বাপু, নিজে চাকরি পাওনি তার দায় কি ওর বলো? ওর ওপরে রাগ মেটালে চলে! ছাত্রের সামনে এভাবে সপ্তাহে তিনদিন বেইজ্জত হতে মোটেই ভালো লাগে না প্রদীপের। মায়ের বলা কথাগুলো বেশ এনজয় করছিল বাবলু। তাই তার কান্না থেমে গেছে। প্রদীপ জানে ও এতটাও জোরে মারেনি যাতে এতক্ষণ ধরে কাঁদতে হচ্ছে। জিন্সের মোটা প্যান্টের ওপরে ফাইবারের স্কেল দিয়ে ঠুক করে শাসনের ভঙ্গিমায় এক ঘা দিয়েছে মাত্র। আসলে বাবলু কাঁদছে ভয়ে। তিনদিন ধরে একই পড়া করে না আসার ভয়ে কাঁদছে ও। প্রদীপ আরও বকবে ভেবেই একবার মারতেই কেঁদে ভাসাচ্ছে, যাতে দ্বিতীয়বার আর প্রদীপ ওকে না বকে। বাচ্চাদের এই সাইকোলজিগুলো এখন প্রদীপ বোঝে। গত তিনবছর বেশ কয়েকজন স্টুডেন্টদের দেখে চাইল্ড সাইকোলজিটা বুঝতে শিখেছে ও। 

বাবলুর হাতে বড় একটা চকলেট ধরিয়ে দিয়ে প্রদীপ বললো, এটা টিচার্স ডের গিফ্ট। ফিক করে হেসে বাবলু বললো, স্যার আমি এখুনি পড়াটা করে দিচ্ছি। শিক্ষকদিবসের দিন ছাত্রদের চকলেট দেওয়াটা অবশ্য ওর নিজের ইচ্ছেতেই করে। এটা ওর একটা ভালোলাগা। 
মিনিট পনেরোর মধ্যেই পড়াটা রেডি করে বললো, স্যার আজ টিচার্স ডে তাই না? আমি তিনদিন ধরে মাকে বলছি, স্যারদের জন্য গিফ্ট কিনবো। মা শুধু স্কুলের স্যার, ম্যামদের জন্য গিফ্ট কিনে দিলো। আপনার আর সাগ্নিক স্যারের কথা বলতেই বললো, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নিয়ে ওই তো দুটো সাবজেক্ট পড়ায়, রেগুলার চা-বিস্কিট আছে। আর গিফ্ট দেয় না। তাই আর কেনা হয়নি স্যার। তবে আমি একটা গিফ্ট বানিয়েছি নিজে। 
বেগুনি রঙের একটা কার্ডের ওপরে কাগজের ফুল দিয়ে সুন্দর করে লেখা হ্যাপি টিচার্স ডে। নিজের অজান্তেই কার্ডটার ওপরে দু ফোঁটা নোনতা জল পড়ে গেলো। কোনো মতে প্রদীপ বললো, তাহলে আজ তুমি আমাকে দুটো গিফ্ট দিলে। এক, বিজ্ঞান পড়া আর দুই এই দারুন কার্ডটা। বাবলুর দুষ্টু ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটলো। 
ছেলেটা একটু ফাঁকিবাজ, একটু দুরন্ত, কিন্তু মনটা খুব ভালো, এটা প্রদীপ আগেও খেয়াল করেছে। বার্থডেতে পাওয়া চকলেটের টুকরো নিজে না খেয়ে প্রদীপের জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিল বাবলু, তখনই বুঝেছিল, মায়ের মত টিউশন স্যারকে অপদার্থ মনে করে না ছেলেটা। 
সাথীদেবীর মেড চায়ের প্লেট আর বিস্কিট নামিয়ে রেখে গেছে, আজ আর খেতে ইচ্ছে করছে না প্রদীপের। ভিতরে একটা চিনচিনে যন্ত্রনা হচ্ছে। চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। মহিলা ছেলের পড়ার কিছু বুঝুক না বুঝুক স্যার ফাঁকি দিচ্ছে কিনা বোঝার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাই বারবার দরজার সামনে দিয়ে যাতায়াত করেন। কান পেতে শোনেন বাবলুর আর প্রদীপের কথাগুলো। বাবলু কখনো একটু গল্প করলেই মহিলা বাইরে থেকে গলা খাঁকারি দেন, কি রে স্যার কি গল্প করতে এসেছেন নাকি? এত গল্প কিসের? 
প্রদীপের বলা হয় না, সব স্টুডেন্ট সমান হয় না বৌদি। একমনে পড়তেই চায় না কিছু স্টুডেন্ট, একটু গল্প করলে বরং পড়াটা মন দিয়ে শোনে। না, বলা হয় না প্রদীপের। গত তিনবছরে ও এটুকু বুঝেছে, ব্রিলিয়ান্ট অথচ চাকরি হয়নি এমন টিউশন টিচারদের লোকে একটু করুণার চোখেই দেখে। 

বাবলুর কাছ থেকে সন্ধে সাতটায় বেরিয়ে শান্তনুদের বাড়িতে পড়াতে যায় প্রদীপ। চা বিস্কিটটা না খাওয়ায় অল্প খিদে পাচ্ছে ওর। একবার ভাবলো, রাস্তায় চপ-মুড়ি খেয়ে নিলে হয়, তারপরেই ঘড়ির কাঁটা ওকে নির্দেশ দিল দেরি হয়ে যাচ্ছে। তাই সাইকেলের প্যাডেলে বেশ জোরে চাপ দিয়ে পৌঁছালো শান্তনুদের বাড়ি। 
শান্তনুর ঘরে ঢুকতেই বেশ চমকে গেল। শান্তনুকে প্রদীপ পড়াচ্ছে মাত্র পাঁচ-ছয় মাস মত। ছেলেটা খুব চুপচাপ। বেশ পড়ুয়া টাইপ। ছেলেটার মধ্যে তেমন উচ্ছাস লক্ষ্য করেনি ও। 
শান্তনু প্রদীপকে লুকোচুরিতে ধপ্পা দেওয়ার ভঙ্গিমায় বললো, হ্যাপি টিচার্স ডে স্যার। চোখ দুটো খুশিতে উদ্ভাসিত হয়ে আছে ছেলেটার। পড়ার ঘরের গোটা দেওয়াল জুড়ে হ্যাপি টিচার্স ডে লিখেছে কাগজ কেটে। প্রদীপের হাতে একটা গিফ্ট প্যাক ধরিয়ে দিয়ে বললো, আপনি তো বই পড়তে খুব ভালোবাসেন তাই না স্যার? আপনার জন্য মা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'যাও পাখি' কিনে এনেছে। মা বলছিল, আপনি নাকি একদিন মায়ের লাইব্রেরির 'যাও পাখি'তে হাত বোলাচ্ছিলেন। মা বলেছে, তোর স্যার বই পড়ুয়া, এ আমি দেখেই বুঝেছি। শান্তনুর মা, মানে মিসেস সেনগুপ্ত প্রদীপকে দেখলেন কদিন? ভদ্রমহিলা তো অফিস থেকে ফেরেনই প্রদীপের যখন ওদের বাড়ি থেকে ফেরার টাইম হয়ে যায়। হাতে গুনে দিন পাঁচেক দেখা হয়েছে প্রদীপের ভদ্রমহিলার সঙ্গে। পাঁচদিনই একই প্রশ্ন করেছেন, ফাঁকিবাজ ছাত্র, জ্বালাচ্ছে না তো ভাই? দোষ করলে অবশ্যই বকবে কিন্তু। পড়াশনা করে তো ঠিক করে? আমরা তো একেবারেই সময় দিতে পারি না, তোমরাই ভরসা! 
ভদ্রমহিলার একটা বেশ বড়সড় লাইব্রেরি আছে শান্তনুর ঘরের ঠিক পাশেই। দিন দুই প্রদীপ ওখানে ঢুকে বইয়ের কালেকশন দেখেছিল। টিউশনের টাকা বাঁচিয়ে বই কেনাটা ওরও নেশা। ভদ্রমহিলা সেটাও খেয়াল করেছেন! অন্যদিন চা-বিস্কিট বা সঙ্গে টুকিটাকি টিফিন পাঠানো হয় প্রদীপকে। আজ শান্তনু বললো, স্যার আজ তো টিচার্সডে তাই মা আপনাকে ডিনার করে যেতে বলেছে। 
সন্ধের হালকা টিফিন করার পরে, শান্তনুকে পড়িয়ে ওর সঙ্গেই কম্পিউটারে টুকিটাকি দেখছিল প্রদীপ। ছাত্রের বাড়িতে ডিনার করতে বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল ওর। আবার হয়তো ডিনার টেবিলে ওকে ওনারা জিজ্ঞেস করবেন, চাকরি পায়নি কেন? সারাটা জীবন কিভাবে কাটাবে? 
এসব প্রশ্নের সামনে বড্ড সংকুচিত হয়ে যায় প্রদীপ। কিন্তু শান্তনু নাছোড়। স্যার আপনাকে আজকে খেয়ে যেতেই হবে। ছাত্রের এমন ভালোবাসা ঠেলে বেরিয়ে যাবে সেই শিক্ষা ও পায়নি। 
ভদ্রমহিলা এসে বললেন, একটু দেরি হয়ে গেল আজ তাই না! সে হোক, টিচার্স ডে বলে কথা, আজ অন্তত একটু স্পেশাল কিছু হোক। আসলে কি বলতো প্রদীপ, রোজ অফিস আর বাড়ি করে করে স্পেশাল ডেগুলো আমরা সেলিব্রেট করতে ভুলে গেছি। তাই সুযোগ পেলেই সানুর বাবা আমায় দোষারোপ করে। আসলে তোমার আর রক্তিমের নাম করে আজ ভদ্রলোকও ভালোমন্দ খেতে চাইছে। কি সাবলীলভাবে কথা বলছেন ভদ্রমহিলা। কোনো জড়তা নেই। রক্তিমও এসে গেছে, আসলে অন্য টিউশন সেরে ওর আসতে একটু দেরি হলো। রক্তিম সানুর আর্টস গ্রুপের টিচার। তিনদিন সন্ধেতে প্রদীপ পড়ায়, বাকি তিনদিন রক্তিম।  
রক্তিম, শান্তনু আর প্রদীপ খেতে বসেছে টেবিলে। 
শান্তনুর বাবা বললেন, আরে এত কম খেলে হয় প্রদীপ? তুমি জানো, আমার যখন কম বয়েস ছিল তখন বিয়ে বাড়িতে গিয়ে তাদের ফতুর করে আসতাম। তোমাদের মত এত ভদ্র টাইপ ছিলাম না আমরা। প্রদীপের বুকের ভিতর ধুকপুক করছে, এই বুঝি ছাত্রের সামনে আবারও শুনবে, আসলে পড়াশোনা করে যারা চাকরি পায় না তারা ফ্রাস্ট্রেশনে ভোগে। 
কিন্তু ভদ্রলোক কম বয়সে নিজেদের দুষ্টুমির গল্প করে কাটিয়ে দিলেন। টিচার্স ডে তে স্যারের টিউশনে গিয়ে কি কি বদমাইসি করেছিলেন সেসব বললেন হেসে হেসে। আর ভদ্রমহিলা তো প্রদীপের সঙ্গে রীতিমত শীর্ষেন্দু না সমরেশ মজুমদার এই নিয়ে বিতর্ক জুড়ে দিলেন। 
শিক্ষকের সম্মান মিশে থাকায় উপাদেয় পদগুলো যেন আরও উপাদেয় লাগছিলো প্রদীপের। রক্তিম বললো,  আসলে চাকরি-বাকরির যা বাজার! বুকটা আবার ধড়ফড় করে উঠেছিল প্রদীপের। 
সানুর বাবা বললেন, দেখো ভাই, আমার কাছে সোজা কথা, যেভাবেই হোক বাঁচতে হবে, মৃত্যু হল ছোটগল্পের মত, আর বাঁচার লড়াইটা হলো একটা দীর্ঘ উপন্যাস। তাই উপন্যাসের প্রতিটা পাতায় রহস্য লুকিয়ে থাকে। কার জীবনে কখন কি মোড় আসে কেউ জানে না। সুতরাং উপন্যাসের শেষ পাতা অবধি পড়তেই হবে। তোমরা তো শিক্ষকতা করছো, স্কুলে করলে স্যালারি বেশি, টিউশন করলে কম এ ছাড়া পার্থক্য তো তেমন কিছু নেই। একটা স্টুডেন্টকে হাতে ধরে শেখাচ্ছ তোমরা। ভবিষ্যত গড়ছো। সবাই যদি চাকরির পিছনে ছোটে, তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে উঠবে কি করে! তাই বলছি, চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছ দাও, কিন্তু কোনো কাজকেই ছোট মনে করো না রক্তিম। আজও আমরা টিউশন স্যারকে রাস্তায় দেখা হলে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করি, এ সম্মান কি কেনা যায়? এই তো এত বড় চাকরি করি, কেউ কোনোদিন টিচার্সডেতে প্রণাম করে বলেছে, হ্যাপি টিচার্স ডে স্যার? এ সম্মান, এ নিখাদ ভালোবাসা কেনা যায় না বুঝেছো। 
আরেকটু হলেই পোলাওর মিষ্টিতে প্রদীপের নোনতা জল মিশে যাচ্ছিলো আরকি, কোনোমতে নিজেকে শাসন করে বললো, বেঁচে থাকাটা সত্যিই একটা উপন্যাস। 

স্যার, আপনি তো বেশ মোটা হয়ে গেছেন, আর এমন একটা কালো চশমা কেন পড়েছেন, একটু স্টাইলিশ কিছু পড়বেন তো? মাত্র ছেচল্লিশেই বুড়িয়ে গেলেন নাকি? ডক্টর শান্তনু সেনগুপ্তর চেম্বারে বসে ছাত্রের শাসন শুনছিলো প্রদীপ। ডায়াবেটিক পেশেন্টদের কিন্তু কিছু এক্সসারসাইজ করতে হয় স্যার। আমি বলে দিচ্ছি সব। 
নামি ডক্টরের মুখে স্যার শুনতে মন্দ লাগছিলো না, প্রাইভেট টিউটর প্রদীপ বাসুর। 
শান্তনু বললো, স্যার, আপনার সব ছাত্রই তো এখন কৃতী। এই তো সেদিন আমাদের ব্যাচের সিদ্ধার্থর সঙ্গে দেখা হলো। এখন প্রফেসর ও। আপনার কথা জিজ্ঞেস করছিল। বলছিল, বহুদিন স্যারের সঙ্গে দেখা হয়নি, একদিন যেতে হবে স্যারের বাড়ি। 
প্রদীপ নরম গলায় বলল, স্কেল দিয়ে মারতাম বলে রাগ করতিস না তো? শান্তনু হেসে বললো, ভাগ্যিস মারতেন স্যার। 
চেম্বার থেকে বেরিয়ে বাড়ির দিকে এগোতে চোখে পড়লো, প্রদীপের কোচিং সেন্টারের বাইরে ছেলেমেয়েগুলোর হাতে রাংতার ঝকমকে কাগজে লেখা হ্যাপি টিচার্স ডে। আগামীকাল টিচার্স ডে তাই আজ থেকেই ওরা প্রদীপের কোচিং সেন্টারটাকে সাজাতে ব্যস্ত। 
সত্যিই বাঁচার লড়াইটা একটা দীর্ঘ উপন্যাস। সে উপন্যাসের কোনো পাতায় আছে প্রাপ্তির আনন্দ কোথাও ব্যর্থতার যন্ত্রনা। তবুও শেষ পাতাটা পড়তেই হবের অদম্য ইচ্ছাতেই ছুটে চলেছে সকলে।

রাকেশ ঘোষাল

Comments

Popular posts from this blog

গ্রীষ্মের_ছুটিতে ছাত্রের লেখা খোলা চিঠি