জীবন ক্যালেন্ডার
টেন-নাইন-এইট-সেভেন-সিক্স-ফাইভ-ফোর-থ্রি-টু-ওয়ান-
"হ্যাপি--নিউ--ইয়ার" -- আনন্দে লাফিয়ে উঠল সকলে, বাজির শব্দে মাতোয়ারা হলো চতুর্দিক, সারা রাত ধরে চলল আনন্দোৎসব, নতুন বছরের আনন্দে সমগ্র বিশ্ব দিশাহারা হয়ে পড়লো। বাদ পড়লো না অনির্বাণও। সেও আনন্দের রেস বুকে নিয়ে ক্লাব থেকে বাড়ি ফিরলো।
প্রত্যেক বছরের মতো এবছরও, দেওয়ালের পুরানো ক্যালেন্ডারটা সরিয়ে, সেখানে একটা নতুন ক্যালেন্ডার টানিয়ে দিলো সে। পুরানো ক্যালেন্ডারটা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে গিয়ে, হাতে আটকে গেল ওটা। আর একবার ওটাতে চোখ বোলাতে বোলাতে তার মনে হলো -- এই যে মহোৎসবের মহা ঢেউ আছড়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্বে -- কেন!
কিসের এত আনন্দ!
কিসের জন্য এত উৎসব!
কোথাও নতুন ভালো কিছু ঘটলো, নাকি কোনো মহা পরিবর্তন আসতে চলেছে -- তার পূর্বাভাস পেয়েছি আমরা!
প্রত্যেক বছর তো এমনটাই করি আমরা, কিন্তু কই! তেমন কিছু পরিবর্তন তো চোখে পড়ছে না। আগের দিন যেমন ছিলাম নতুন বছরেও তো তেমনই আছি --
আজও শয়তানেরা একইরকম ভাবে মুখোশের আড়ালে হেসে চলে;
গালিগালাজ, টোনটিটকিরি -- আজও সমানভাবে হয়ে চলেছে;
পড়শীর কাছে আজও পড়শীর উন্নতি খুব কষ্টের;
অসহিষ্ণুতা বিন্দু মাত্রও কমেনি আজকের দিনে; আজও একই ভাবে জনসাধারণের আওয়াজ কিনে নিচ্ছে রাজনীতি ;
আজও পথেঘাটে ধর্ষিত হচ্ছে নারী;
ডাস্টবিনের খাবার নিয়ে কুকুর আর মানুষের মধ্যে লড়াই -- পথের ধারের চিত্রটাও আজও একই;
আজও একই হারে ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করছে কৃষক;
একইরকম সব দুর্ঘটনায় আজও পায়ে পায়ে মৃত্যু ঘটে চলেছে অসংখ্য মানুষের;
তবে কেন শুধু শুধু বাজী ফাটিয়ে দূষণের মাত্রা বাড়ানো! বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে এতো আলোচনা, বৈঠক কি শুধুই নাটক!
জীবনের চল্লিশটা বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর, আজ প্রথম অনির্বাণের মনে হলো -- জীবনের একটা মানে থাকা উচিৎ। স্রোতে গা ভাসিয়ে চলা মানুষের থেকে মৃত মানুষের দাম অনেক বেশী, কারণ -- সে আজ আর পৃথিবীর বোঝা নয়, সে শুধুই শিক্ষা।
অনির্বাণ, তার হাতে তুলে নিল কলম। তার জীবন ক্যালেন্ডারে এই এক তারিখটা, লাল কালি দিয়ে গোল করে রাখলো সে। আজ থেকে বাকী জীবনের প্রতিটা দিন সে প্রাণ ভরে বাঁচতে চায়। কলমের মাধ্যমে সে মানুষকে শোনাতে চায় তার মনের কথা। বোঝাতে চায় -- গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে নয়, একটু ভাবনা চিন্তা......
রাকেশ ঘোষাল
Comments
Post a Comment