রেডিও জকি

সপ্তাহের তিনটে সন্ধে ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কেটে যায় শ্রুতির। 

একদিকে মাস্টার্সের চাপ, অন্যদিকে রেডিও জকির কাজ। ওর 'এসো কথা বলি' প্রোগ্রামটা ওদের চ্যানেলের বিশাল আকর্ষণ। বিশেষ করে নিউ জেনারেশনের কাছে। যখন ওদের 'শুভ সকাল' চ্যানেলের টি আর পি প্রায় তলানিতে এসে পৌঁছেছিল তখন আচমকাই শ্রুতির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল চ্যানেলের ডিরেক্টার রাহুল সেনগুপ্তর সঙ্গে। শ্রুতি তখন সদ্য গ্রাজুয়েশন করে নিজের আবৃত্তি শিক্ষার ক্লাসের বিজ্ঞাপন দিয়েছিল কাগজে। সেই বিজ্ঞাপন দেখেই ফোন করেছিলেন রাহুল সেনগুপ্ত। 'শুভ সকাল' চ্যানেলের অফিসে যাওয়ার পরে উনি বলেছিলেন, ভয়েস টেস্ট করতে চাই। আমার চ্যানেল নতুন গলা চায়। 

শ্রুতি একটু কৌতূহলের বশেই ইন্টারভিউ দিয়েছিল। তার সপ্তাহখানেক বাদে ডাক এসেছিল। শ্রুতি গিয়েছিল। 

রাহুল বলেছিল, আমার চ্যানেল ডুবতে বসেছে নতুনত্বের অভাবে। ওই একঘেয়ে সকালের টি টাইমে কিছু গান। সারাদিন টুকটাক আলোচনা। সন্ধের দিকে গান শোনানো বা একাঙ্ক নাটক। শ্রোতারা আর শুনতে চাইছে না। 

কিছু কি করা যায়?

শ্রুতি একটু ভেবে বলেছিল, স্যার এ শহরে অনেকেই আছে যাদের অনেক কথা আছে বলার। কিন্তু ঠিক বলে উঠতে পারে না। বলতে চেয়েও ব্যর্থ হয়। হয়তো ভয় পায়। ভাবে ঠিক মত বলতে না পারলে লেগপুল হবে। তাই থেমে যায়। অথবা অভ্যেস চলে যায় কথা না বলে বলে। ধীরে ধীরে ডিপ্রেশন এসে ভিড় করে। এরা তখন ঘরের কোণে নিজেকে নিয়ে একাকীত্ব উপভোগ করে। এদের যদি আনা যায় আমাদের চ্যানেলে কোনো একটা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে তাহলে মনে হয় সাড়া পড়বে শ্রোতা মণ্ডলীতে। 

রাহুল বলেছিল, এটা তো বেশ আইডিয়া। এটা তোমার দায়িত্বে। বলো নাম কী দেবে?

শ্রুতি বলেছিল, 'এসো কথা বলি'। রাহুল বলেছিল, আরেকটু আর্টিস্টিক নাম দিলে হয় না? শ্রুতি সম্পূর্ণ অপরিচিত রাহুলকে বলেছিল, না হয় না। নামটার মধ্যে শৈল্পিক ব্যাপারের থেকেও বেশি থাকা দরকার আন্তরিকতা। যাতে মানুষ তার জমে থাকা কথাগুলো বলতে পারে। উজাড় করে দিতে পারে নিজের অন্দরে থাকা সমস্ত অভিব্যক্তিগুলো। 


শুরু হলো শ্রুতির 'এসো কথা বলির' পথ চলা। সপ্তাহে তিনদিন সন্ধেতে হয় শ্রুতির অনুষ্ঠানটা। 


সুরেলা মিষ্টি গলায় ও বলে ওঠে....আমি শ্রুতি রায়। লোকে বলে রেডিও জকি। আমি বলি, শরৎবাবুর সাধারণ মেয়ে আমি। যাকে কলমের খোঁচায় কবি বিদেশ ভ্রমণ করে আনলেও বাস্তবে আমি ভীষণ কলকাতা প্রেমী। হাওড়া ব্রিজের সন্ধে হওয়া, ভিক্টোরিয়ার পাঁপড়ি চাট, প্রিন্সেপ ঘাটের গঙ্গার চুপিচুপি কথা এগুলোতেই নিজেকে ডুবিয়ে দিতে পছন্দ করি। কলকাতার নোংরা, কলকাতার জল জমার মধ্যেও আমি বলি- সিটি অফ জয়। তাই আমি ঠিক তোমাদের মত। পড়াশোনার ফাঁকে একটা চাকরির খোঁজে পৌঁছেছি এই চ্যানেলে। ঠিক তোমাদের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অথবা টিউশনিতে কিছুক্ষণের ডিউটি দেওয়ার মত। 

দূরে থাকলে তো আমাকে অন্য জগতেরই মনে হবে। তাই চলে এসো না আমার কাছে। আমরা আড্ডা দিই। আমাদের গল্প শুনুক এ শহর কলকাতা। নাম নাহয় আড়ালেই থাকুক তোমার। 

শুরু হলো শ্রুতির রেডিও জকির জীবন। RJ Shruti Roy এখন একটা রীতিমত পরিচিত নাম। না, পরিচিত মুখ নয়। কারণ শ্রুতি নিজেকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করে। ওর কণ্ঠস্বরেই নাহয় চিনুক ওকে। দেখতে ও মোটেই আহামরি নয়। বলতে গেলে ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া একটা চেহারার অধিকারিণী ও। নেহাত মায়ের শখে কবিতা আবৃত্তিটা শিখেছিল তাই কাজে লেগে গেল। 

নিজের পড়াশোনার খরচটা তো উঠে আসে। কনভেন্ট স্কুল থেকে পাশ করেছে বলেই ইংরাজিটাও তুখোড় বলে শ্রুতি। 

আর বাংলা তো ওর চিরকালের পছন্দের। ওর প্রাণের ভাষা। সমস্যা হচ্ছিল হিন্দি বলতে। তাও ইদানিং অভ্যেস করে নিয়েছে। শো-এর দিন সন্ধেতে অন্তত তিন থেকে চার জন আসে শ্রুতির সঙ্গে শ্রোতাদের সামনে নিজের গল্প বলবে বলে। আর অন্তত পঞ্চাশটা ফোন পায় অনুষ্ঠান চলাকালীন। সকলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয় না। রাহুল স্যার বলছে, শ্রুতি তোমায় প্রোগ্রামের টাইমটা এক ঘন্টা থেকে বাড়িয়ে দুই করে দিতে হবে। যা ক্রেজ তৈরি করে দিয়েছো। 

শ্রুতি বলে, স্যার বিশ্বাস করুন আমিও চেয়েছিলাম মানুষের মনের গভীরে প্রবেশ করে তার সবথেকে আড়াল করা জায়গার কষ্ট, ভয়, সংশয় এগুলো দূর করতে। অনেকেই আসে নাম গোপন করে। তারপরে প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে কত গল্প করে। কেউ কেউ তো শুধুই কাঁদে। মনে হয় কত কান্না জমে আছে তার বুকে। কাঁপা গলায় বলে চলে জীবনের গল্প। জমে থাকা অনেক কথা। 

শ্রুতি কাজটা ভালবেসে করে। 

আজও 'এসো কথা বলির' সেটে ঢুকতেই একজন পরিচিত মানুষকে দেখতে পেল ও। যদিও চেহারার পরিবর্তনের জন্যই কনফার্ম হতে পাচ্ছিল না শ্রুতি। এই কি সে? মনের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়েই এগিয়ে গেল শ্রুতি। 

মুখে বলল আসুন। ছেলেটি এগিয়ে এসে বসলো শ্রুতির পাশে। আচমকাই বলল, না থাক। আমার কোনো গল্প নেই। ঠোঁটটা অভিমানে কেঁপে উঠলো যেন। আলগোছে বলল, আবারও হয়তো আমার বলা কথার জন্য ভুল বুঝবে লোকজন। দূরে চলে যাবে কেউ, যাকে আমার ক্রাইসিস টাইমে সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল। উঠে চলে যেতে যাচ্ছিলো ছেলেটা। 

শ্রুতি বলল, বলা যায় না কিছুই, ভুল বোঝার সমাপ্তিও হতে পারে। তবুও ঠোঁটটা সামান্য নেড়েও চুপ করে গেল ছেলেটা। দুচোখে অব্যক্ত কষ্ট। 

শ্রুতি বলল, আমি একটা গল্প বলি? শুধু শুনুন আপনি। ছেলেটা কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে বলল, গল্প? বেশ শুনি তবে। 

আমি একদিনের একটা দৃশ্য তুলে ধরছি। বলেই শ্রুতি শুরু করলো। 

একটু বেশি করে প্রোটিন খেতে পারিস তো। রেগুলারের ডায়েটে প্রোটিন রাখ, বাটার রাখ। আর শোন স্কিনটার একটু যত্ন নিতে পারিস। আরে মেয়েরা শুধু পড়াশোনা করলেই হয় না। রূপচর্চাটাও জীবনের একটা বড় অঙ্গ জানিস তো। নিজের ঝকঝকে স্কিনের ওপরে এক ফোঁটা ভিটামিন ই সিরাপ ভালো করে লাগিয়ে নিয়ে বলল আন্টি। আন্টি মানে স্বর্ণাভর মা। শ্রুতি ঘাড় নেড়ে মিষ্টি করে হেসে বলল, আন্টি আমি ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট নই জানো তো। স্বর্ণাভর মতোও নই। 

মালবিকা আন্টি ঠোঁটটা কামড়ে বলল, আরে ধুর। আমি বুঝি তাই বললাম? আমি তো জানি তোদের ব্যাচে স্বর্ণাভর মত একজনই আছে রাজিকা। বাকি তোরা তো মিডিওকার। এনিওয়ে আমার আবার আজ একটা সেমিনার আছে। তুই ঘরে যা স্বর্ণাভ আছে তো। 

শ্রুতি একটু রোগার দিকে আর দেখতে তেমন সুন্দর নয় বলে এমন অযথা পরামর্শ ওকে সর্বত্র শুনতে হয়। এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে ও। 

শ্রুতির ঠিক ভালো লাগে না স্বর্ণাভর বাড়িতে আসতে। স্বর্ণাভরা ঠিক ওদের মত নয়। কেমন যেন অন্য রাজ্যের মানুষ মনে হয়। ওর মা মালবিকা আন্টি আর্ট কলেজের প্রফেসর। বাড়িটাকে সাজিয়ে রেখেছেন মন ভোলানো রং দিয়ে। কী দুর্দান্ত ওদের বাড়ির ইন্টিরিয়ার ডেকোরেশনটা। মুগ্ধতা আসে শ্রুতির। কিন্তু বড্ড কৃত্রিম যেন। প্রাণের ছোঁয়া নেই এই বাড়িটাতে। স্বর্ণাভর বাবা বছরের অর্ধেক সময় বাইরে থাকেন। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। 

মাঝে মাঝে আসেন। তাকে শ্রুতি একবার দেখেছিলো। ভদ্রলোক খুব আলতো করে বলেছিল, তোর বন্ধু সোনু? বাহ, গুড গার্ল। 

শ্রুতির কেন কে জানে মনে হয়েছিল, ওর বাবার চোখে মুখে ফুটে উঠেছিল, এ তোর বন্ধু কেমন করে হয় সোনু?

এ যে আমাদের ক্লাস নয়। 

শ্রুতির নেহাতই ছাপোষা মায়ের ইচ্ছেতেই শ্রুতিকে ভর্তি করা হয়েছিল শহরের নামি স্কুলে। ও যখন স্কুলে যেত তখন মনে হতো দামি দামি অর্কিডের বাগানের মধ্যে কি করে যেন একটা নয়নতারা গাছ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। একফোঁটা মাটি পেয়েছে বাঁধানো উঠোনের মধ্যে ওমনি বেহায়া নয়নতারা যেন মাথা ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা করছে এ বাগানে সে কতটা বেমানান। এমনই অবস্থা হয়েছিল শ্রুতির সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে ভর্তি হবার পরে। স্কুলড্রেস, ওয়াটার বটল, টিফিনবক্স, স্কুল ব্যাগ এক হওয়া সত্ত্বেও কোথায় যেন বড্ড বেমানান শ্রুতি এই স্কুলে। যদিও বিষয়টা ঠিক কী প্রথম প্রথম ক্লাস ফাইভের শ্রুতি বুঝতে পারতো না। পরে ওর ক্লাসমেট মানে একবাক্যে যাদের ফ্রেন্ডস বলা হয় তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার পরে ও বুঝতে পেরেছিল আসল সমস্যাটা ঠিক কোথায়! কিন্তু সেটা গিয়ে বাড়িতে কখনও বলতে পারেনি। কারণ মায়ের দু চোখে মেয়েকে নামি স্কুলে পড়ানোর স্বপ্ন। আর বাবার দুশ্চিন্তা, এত খরচ পারবো তো? এই তো একটা ছোট্ট প্রাইভেট জব। 

তাই শ্রুতি পড়াশোনায় মন দিয়েছিল। কিন্তু সেখানেও যে ও বিশাল কিছু করতে পারবে না, সেটা বেশ বুঝতে পারছিল। কারণ ওর থেকে ওদের ক্লাসের অনেক ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট আছে। তাই ওই গরিবের মেয়ের ফার্স্ট হয়ে যাওয়ার গল্প তৈরি হয়নি ওর জীবনে। ও বরং মিডিওকার হয়েই থেকে গিয়েছিল। যত বড় হচ্ছিল তত অন্যদের সঙ্গে ওর ফারাকটা বুঝতে পারছিল ওই স্কুলে। যদিও ততদিনে শ্রুতি নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছিল ওখানে। ঠিক যেমন গোলাপি ফুল ফুটিয়ে নয়নতারা গর্বিত মুখে হাসে দামি দামি ফুলের পাশে, ঠিক তেমনই। 

বন্ধুরা যখন পুজোর ছুটিতে মরিশাস কি সুইজারল্যান্ড বেরিয়ে আসার গল্প করতো তখন ও গল্প করতো ওর বেলুড়মঠের মামার বাড়ির পুজোর। 

কেউ কেউ মুখ টিপে হেসে বলত, প্লিজ শ্রুতি ডিফারেন্ট কিছু বল। প্রতিবছর তোর একই গন্তব্য। 

শ্রুতি হেসে বলল, আমার ভালো লাগার জায়গা ওটা। ওখানে গেলে আমি বিন্দাস থাকি। 

শ্রুতির কোনো বিশেষ বন্ধু ছিল না স্কুলে। আবার সবাই ওর বন্ধু। আবার কেউ না। সকলের সঙ্গেই শ্রুতি কথা বলতো নির্দ্বিধায়। তবে স্বর্ণাভর সঙ্গে ওর একটু বেশি বন্ধুত্ব ছিল। 

ধীরে ধীরে ওরা সেন্ট জোসেফ স্কুলের মাঠে শৈশব হারিয়ে যৌবনে পদাপর্ন করল। আর ওদের আলোচনার বিষয়টা কেমন যেন পাল্টে গেল। কে কত সুন্দরী, কে কার ক্রাশ এসব হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো ওদের আলোচনায়। 

এমনই এক লাঞ্চ ব্রেকে স্বর্ণাভ সকলের সামনে বলে ফেলেছিল, আমার শ্রুতিকে বেশ লাগে। কমপ্লেক্স নেই ওর মধ্যে। ও যেমন তেমন দেখাতে বা থাকতেই পছন্দ করে। জোর করে বড়লোক হবার ইচ্ছে নেই। মিথ্যে বলে সকলকে টপকে যাবার বাসনা নেই। আবার ওরা মধ্যবিত্ত বলে তেমন হীনমন্যতাতেও ভোগে না ও। 

স্বর্ণাভর মত ব্রিলিয়ান্ট, অভিজাত ফ্যামিলির ছেলের মুখ থেকে শ্রুতির প্রশংসা শুনতে হবে এমনটার জন্য তৈরি ছিল না কেউই। না, শ্রুতি সেদিন স্কুলে আসেনি। পরেরদিন ক্লাসে ঢুকে বুঝেছিল কেমন একটা তাল কাটা ভাব। ভায়োলিনটা বাজছে নিজের সুরেই কিন্তু একটা তারে সুরটা বেসুরো লাগছে যেন। শ্রুতি প্রথমেই বনশ্রীর কানে কানে বলেছিল, কালকের ক্লাসে কী হলো বল প্লিজ। 

বনশ্রী হেসে বলেছিল, আর কি হবে তোকে ছাড়া স্বর্ণাভ অন্ধকার দেখছিল রে! সকলের সামনে বলে দিলো তুই নাকি ওর ক্রাশ। এমনকি রাজিকার সামনেও। রাজিকা বেচারি কবে থেকে স্বর্ণাভকে ভালোবাসে। কাল থেকে কারোর সঙ্গে কথাই বলছে না রাজিকা। তুই তো জানতিস রাজিকা স্বর্ণাভকে ভালোবাসে, তারপরেও ওর দিকে এগোতে তোর লজ্জা করলো না? 

শ্রুতি একটু চমকে গেছে। স্বর্ণাভ ওর ভালো বন্ধু এটা ও জানতো। কিন্তু ক্রাশ এটা তো কখনও কোনো ব্যবহারে প্রকাশ পায়নি। ক্লাস শুদ্ধু সবাই জানে রাজিকা স্বর্ণাভকে চায়। দুজনের ফ্যামিলি স্ট্যান্ডার্ডও এক। দুজনের মধ্যে পড়াশোনা নিয়েও কম্পিটিশন আছে। তাছাড়া রাজিকা ভীষণ সুন্দরীও। এরমধ্যে শ্রুতি এলো কোথা থেকে!

সবাই কেমন একটা ব্যঙ্গাত্মক চোখের শ্রুতির দিকে তাকাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল অন্যায়টা শ্রুতির। 

স্বর্ণাভর মধ্যে আলাদা কিছু খুঁজে পায়নি শ্রুতি বন্ধুত্ব ছাড়া। একইরকম ভাবে স্কুল ছুটির পরে শ্রুতিকে বলেছে, গাড়িতে আয়, লিফট দিয়ে দেব। 

শ্রুতি একইরকম ভাবে হেসে বলেছে, না বস অভ্যেস বড় বিষম বস্তু। তাছাড়া বাসের সিটগুলো কাঁদে আমায় না দেখলে। 

এভাবেই চলছিল শ্রুতির জীবনটা। শ্রুতি সুন্দরী নয়, শ্রুতি ব্রিলিয়ান্ট নয়, ওর স্কিনে যৌবনের জেল্লা নেই বরং ম্রিয়মাণতা আছে, গায়ে আভিজাত্য নেই, বাবার টাকা নেই, বড় বাড়িতে বাস নয় তবুও শ্রুতি শহরের নামকরা স্কুলেই ক্লাস টুয়েলভের ছাত্রী। তার একটাই কারণ মায়ের স্বপ্ন ও নামি স্কুলে পড়বে। কারণ ওর অবস্থাপন্ন মাসি,মামার ছেলেমেয়েরা এমন স্কুলেই পড়ে। 

স্কুলের পরিবেশে দলছুট শ্রুতি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিল এতদিন, কিন্তু সমস্যাটা হল আই এস সি এক্সামের আগে। 

স্বর্ণাভ আচমকাই স্কুলে আসা কমিয়ে দিল। স্কুল থেকে ওর বাড়িতে চিঠিও গেছে। হঠাৎই একদিন স্বর্ণাভর মা শ্রুতির ফোনে ফোন করে বলে, বাড়িতে আসিস তো একদিন। শ্রুতি বার দুয়েক গিয়েছিল স্বর্ণাভর বাড়িতে। ওর জন্মদিনের পার্টিতে। হঠাৎ ওকে কেন ডেকে পাঠান হলো বুঝতে পারেনি শ্রুতি। ভয়ে ভয়েই এসেছিল স্বর্ণাভর বাড়িতে। এসে দেখলো মালবিকা আন্টি বেশ স্বাভাবিক। 

শ্রুতিকে স্কিন কেয়ারের পরামর্শ দিয়ে সেমিনারে যাবে বলে রেডি হচ্ছিল। শ্রুতি জিজ্ঞাসা করল, আন্টি আমায় কেন ডেকেছিলেন? 

আন্টির কিছু একটা মনে পড়ে যাওয়ায় বলল, স্বর্ণাভ কদিন ধরেই ভীষণ অফ হয়ে আছে। তোরা ওর ভালো বন্ধু। তাই ডাকলাম। কথা বলে দেখ ঠিক কী হয়েছে? এত বিলাসিতায় থেকেও যদি কারোর মনখারাপ হয় তাহলে তোকে দেখে শিখুক। তুই কত কম পেয়ে বড় হচ্ছিস। কত কষ্ট তোর মনে। 

শ্রুতি হেসে বলেছিল, না আন্টি আমার মনে কোনো কষ্ট তো নেই। বরং আমি খুব ভালো আছি। 

আন্টি বিশ্বাস করেনি। কারণ আন্টির ধারণা মধ্যবিত্তরা কষ্টেই থাকে। যাদের জীবনে অর্থ কম তাদের হাসতে মানা। 

শ্রুতি ধীরে ধীরে ঢুকেছিল স্বর্ণাভর ঘরে। স্বর্ণাভ কম্পিউটারে বসে গেম খেলছিল। ওকে দেখে স্বাভাবিক গলায় বলল, ওহ শ্রুতি, তুই হঠাৎ? মা ডাকলো নাকি তোকে? আমার বন্ধুদের ফোন নম্বর চাইছিল ওই জন্যই!

শ্রুতি একটু অবাক হয়েই বলল, তুই হঠাৎ স্কুল বন্ধ কেন করলি রে? স্বর্ণাভ বলল, ইচ্ছে করছে না কোলাহলে যেতে। মনে হচ্ছে ওই স্কুল, এত বছরের সব ক্লাসমেটরা বড্ড মেকি বিহেভ করে এখন। হয়তো আমরা বদলে গেছি। শ্রুতি বলল, এক্সাম দিবি না?

স্বর্ণাভ হেসে বলল, দেব তো। প্রিপারেশন নিচ্ছি। এই শ্রুতি তুই এরপর কোথায় ভর্তি হবি রে?

শ্রুতি বলেছিল, আমার না সাইকোলজি নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছে জানিস। এই যে মানুষ অকারণে এত মিথ্যে বলে, এই যে প্রাণখুলে হাসতে পারে না, অকপটে বলতে পারে না মনের কথা। অযথা অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় করতে চায়, এসব নিয়ে জানতে ইচ্ছে করে খুব। হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে পড়ার বড্ড ইচ্ছে। 

স্বর্ণাভ বলল, আমার মনের মধ্যের আমিটাকে নিজেই খুঁজে পেলাম না, সেটা নাকি অন্য কেউ আবিষ্কার করবে! এর থেকে কল্পনা প্রসূত আর কিছু হয় না শ্রুতি। 

শ্রুতি বলল, তার আগে তুই একটা কথা বল, তুই সকলকে বলছিস যে আমি তোর ক্রাশ? এভাবে ব্যঙ্গ কেন করলি আমার সঙ্গে?

স্বর্ণাভ হেসে বলল, তুই নাকি মানুষের মনের ভিতরে ডুব দিবি। তাহলে সেই ডুবটা এখনই দিতে শুরু করে দে। 

আমি কখনও বলিনি তুই আমার ক্রাশ। এমনকি এটাও বলিনি তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড। শুধু বলেছিলাম, শ্রুতির মধ্যে একটা সারল্য আছে। ও যা ও তাই, সেটাই দেখায় সকলের কাছে। খুঁড়িয়ে বড় হবার চেষ্টা নেই। অকারণ জটিলতা নেই। 

এতেই দেখলাম আমাদের ক্লাসের সকলের মুখ ভার হলো। রাজিকার রাগ হলো। সে আর আমার সঙ্গে কথা বলে না। 

আসলে কী জানিস শ্রুতি, এদের আর বন্ধু ভাবতে ইচ্ছে করছে না রে। এত মেকি, এত ফরম্যালিটিস মেনে বন্ধুত্ব হয় না। তাই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। 

শ্রুতি স্বর্ণাভর কাঁধে হাত রেখে বলল, তোর কিছু বলার থাকলে নির্ভাবনায় বলতে পারিস। 

স্বর্ণাভ আনমনে বলল, প্রাণ খুলে কথা বলার অভ্যেসটা যে ছোট থেকেই চলে গেছে আমার। এসব বাদ দে, আমার জন্য তোকে কি ক্লাসে কারোর কাছে অপমানিত হতে হয়েছে? বর্ণালী, সৌমেন, রাজিকা, বনশ্রী এরা কিছু বলেছে তোকে?

শ্রুতি ঘাড় নেড়ে বলল, না বলেনি সেভাবে তবে আচরণে বুঝিয়ে দিচ্ছে। 

শ্রুতির বলতে ইচ্ছে করলো না, তোর ওই একটা কথার জন্য আমি ব্রাত্য হয়ে গেলাম বন্ধু ব্যাচের কাছেই। এমনিতেই এই স্কুলে শ্রুতি বেমানান ছিল। যেমন এখনও স্বর্ণাভর বাড়িতে এই আভিজাত্যের প্রাচুর্যের মধ্যে শ্রুতি ভীষণ রকমের বেমানান এটা ও ভালো করেই জানে। সকলের ব্যবহার থেকে এটা পরিষ্কার। কিন্তু শ্রুতি এসবে পাত্তা দেয় না। ও যেমন তেমন করেই বাঁচতে ভালোবাসে।  কিন্তু স্বর্ণাভ নিজেও বোধহয় বোঝেনি ওই স্কুলে শ্রুতিকে আরও কতটা পিছনে ঠেলে দিলো ওর ওই একটা কথা। শ্রুতির বলা হলো না রাজিকা ওকে সকলের সামনে বিশ্রী অপমান করেছে। ওর নাকি চাঁদ ধরার ইচ্ছে। 

শ্রুতি সেভাবে উত্তর দেয়নি। শুধু বলেছে, চাঁদের আলো সকলের জন্য। তাকে আলাদা করে ধরে রাখার প্রয়োজনই বা কী? 

না, স্বর্ণাভ কখনও স্বীকার করেনি ওর ক্রাশ শ্রুতি। বরং ধীরে ধীরে ও দূরে চলে গেছে শ্রুতির থেকে। শ্রুতিও নিজের জগতে ব্যস্ত হয়ে গেছে। স্বর্ণাভর থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় ভেবেছে। 

স্কুল লাইফের আলগা অভিমান, অনেকটা খুনসুটি অনেক সময় ভীষণ সিরিয়াস হয়ে যায়। সেটাই বোধহয় হয়েছিল স্বর্ণাভ আর শ্রুতির মধ্যে। দূরত্ব বাড়তে বাড়তে ওরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অথচ ওরা একদিন বন্ধু ছিল। একমাত্র স্বর্ণাভ মনে করতো শ্রুতির মধ্যে সব পিওর। আর শ্রুতি ভাবতো, অহংকার নিয়ে নয় নিছক বন্ধুত্বের চোখে ওকে একমাত্র দেখে স্বর্ণাভ। সেই নিখাদ বন্ধুত্বটাও কেমন যেন ভাঙতে ভাঙতে ভেঙেই গেল অকারণে। শ্রুতি বোঝেনি স্বর্ণাভ কেন ওকে দূরে সরিয়ে দিল। ওর দোষটা ঠিক কোথায়! শ্রুতির মনে হয়েছিল, স্বর্ণাভ হয়তো নিজের ওপরেই বিরক্ত হয়েছিল সবথেকে বেশি। ওর ওই একটা হালকা কথার থেকে যে সবাই শ্রুতিকে ওর ক্রাশ করে দেবে এমন ভাবনা বোধহয় স্বর্ণাভর মনে আসেনি। সেই জন্যই রাগ হয়েছিল। স্কুলে, কোচিংয়ে এত এত সুন্দরী মেয়ে থাকতে শেষে শ্রুতি? যার না আছে রূপ, না আছে গুন। যাকে বন্ধু ভাবতেই পারে না অনেকে তাকে গার্লফ্রেন্ড তকমা দিলে বিরক্ত হবে বৈকি। 

স্বর্ণাভও বিরক্ত হলো। নিজেকে গুটিয়ে নিলো। শ্রুতি কিছুই না করে অদ্ভুত এক অপমানের ভাগীদার হয়ে রয়ে গেল। 

গল্পটা বলে শ্রুতি থামল। ছেলেটা বলল, তোর শ্রোতারা সবাই শুনছে তো শ্রুতি? তাহলে আমি বাকিটা বলবো। শ্রুতি চোখের জল মুছে বলল, সবাই শুনছে তুই বল।


 স্বর্ণাভ গলাটা ঝেড়ে নিয়ে বলল, না, শ্রুতি কোনদিনই স্বর্ণাভর ক্রাশ ছিল না। যেটা ছিল সেটা হলো নির্ভরতা। যার কাছে মন খুলে বলা যায় সব কথা। স্বর্ণাভ বাবা-মা কারোর কাছে নিজের মনের কথা বলতে পারতো না। আসলে ছোট থেকে ব্যস্ত বাবা-মায়ের সময় ছিল না স্বর্ণাভর সঙ্গে গল্প করার। স্কুলে গিয়েও স্বর্ণাভ দেখেছিলো অদ্ভুত এক অসুস্থ কম্পিটিশন। কে কে পুজোয় বিদেশ যায়, কার কত দামি জামা হয়েছে , কে কোন নামি রেস্টুরেন্টে ডিনার সারতে যায় তার প্রতিযোগিতায় যখন হাঁফিয়ে উঠেছিল স্বর্ণাভ তখন, ঠিক তখন একটা মেয়ে অবলীলায় বলল, আমি পুজোয় বেলুড় মঠ যাই। মঠে কুমারী পূজা দেখি। মামার বাড়িতে মজা করি। ফুলঝুরি জ্বালাই, ফুচকা খাই। 

পুজোয় আমার দুটো জামা হয়। একটা অষ্টমীতে পরে অঞ্জলি দিই। আরেকটা নবমী রাতে। 

স্বর্ণাভ চমকে তাকিয়েছিলো ওই নির্ভেজাল টাটকা বাতাসের দিকে। স্বর্ণাভর মনে হয়েছিল, ও সকলের সামনে বলে দেয়, স্বর্ণাভর মায়ের সময় নেই ছেলেকে দেওয়ার মত। বাবা তো বাড়ি ফিরলেও ক্লাবে আর পার্টিতে কাটিয়ে দেয়। মোটকথা স্বর্ণাভ হ্যাপি নয়। মারাত্মক আনহ্যাপি। 

শ্রুতি নির্দ্বিধায় নিজের টিফিন বক্সের রুটি-আলুর তরকারি খেতে খেতে গল্প করতো সকলের সঙ্গে। নিতান্ত মধ্যবিত্ত টিফিন এনেছে বলে কোনো হীনমন্যতা ছিল না ওর মধ্যে। স্বর্ণাভর খুব ইচ্ছে করতো ওই আটপৌরে ভালোবাসা মাখা টিফিনে ভাগ বসাতে। কিন্তু ক্লাসের সবাই বাঁকা নজরে দেখবে বলেই হাত বাড়াতে পারেনি। খুব ইচ্ছে করতো মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখে অনেকক্ষণ কাঁদতে। কিন্তু সবাই প্রেম ভেবে ভুল করবে বলেই করা হয়নি। শ্রুতির মধ্যে সব থেকে আকর্ষণীয় যে বিষয়টা ছিল সেটা হলো ওর স্বতঃস্ফূর্ততা। ও দেখতে সাধারণ, ও মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়ে, ও পড়াশোনায় মিডিওকার কিন্তু এগুলো নিয়ে ওর মধ্যে কোনো কমপ্লেক্স কাজ করতো না। ও যেন দুরন্ত বাতাস। কী সুন্দরভাবে মিশে যেতে পারতো সকলের সঙ্গে। সবাই ওকে দলছুট করে দিতো সেটা ওর দোষ নয়। না, শ্রুতি আমার ক্রাশ ছিল না। বন্ধু ছিল। ভীষণ ভরসাযোগ্য বন্ধু। যার সঙ্গে ব্রেকআপে আমি কষ্ট পেয়েছিলাম। আর কাউকে কোনোদিন মন খুলে বলা হয়নি, আমি ঠিক কী চাই আর চাই না। সবাই বলে দিল আমি নাকি ইন্ট্রোভার্ট। ওই তকমা নিয়ে আজও চলছি রে শ্রুতি। 

স্বর্ণাভ তাকিয়ে দেখল শ্রুতির চোখে জল। 

'এসো কথা বলির' সেট থেকে বেরিয়ে শ্রুতি বলল, কাঁদবি? আমার কাঁধে? কাঁদতে পারিস। লোকে যদি ভাবে আমারা প্রেম করছি তাতেই বা কি স্বর্ণাভ? বন্ধুত্বে কি ভালবাসা থাকতে নেই? আসলে কি জানিস এই জেন্ডার বিভাজনটা বড্ড সমস্যার। একটা ছেলে-মেয়ের বন্ধু মানেই ঘুরে ফিরে সেক্স আর বিয়েতে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় লোকজন। 

স্বর্ণাভ বলল, প্রেমে পড়েছিস তুই? 

শ্রুতি ঘাড় নেড়ে বলল, হুঁ। কি করে বুঝলি?

স্বর্ণাভ হেসে বলল, আহা বস তো দেখলাম তোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। মিস্টার রাহুল সেনগুপ্ত তো শ্রুতি বলতে চারবার ঢোক গেলে রে! শ্রুতি বলল, মানুষটা খুব ভালো জানিস। ভালোবাসি ওকে। 

আর তুই? 

স্বর্ণাভ বলল, আল্টিমেটলি আমি আর রাজিকা রিলেশনে আছি জানিস। কিন্তু তোকে মিস করি। না শ্রুতি আবারও বলছি তুই আমার ক্রাশ নোস, তুই আমার প্রেম নোস তুই আমার কাছে অনেকেটা মুক্ত বাতাস। 

শ্রুতি ভয় পাওয়ার ঢঙে বলল, রাজিকা আবার আমায় ঝাড়বে বস। স্বর্ণাভ বলল, ঝাড়বে না। ও বুঝেছে তুই আমার মনের কাছে বাস করিস। তাই তোকে তাড়িয়ে আমায় সম্পূর্ণ পাওয়া যাবে না। ওই আমায় এখানে পাঠালো জানিস। 

কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তায় চলছিল দুজনের খুনসুটি। ফিরে পাওয়া বন্ধুত্বের অমূল্য গল্পের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল দুজনেই। 

শ্রুতি বলল, এই আমাদের এস বি স্যার একবার ক্লাসে তোকে কি বলেছিল তোর মনে আছে?

স্বর্ণাভ বহু যুগ পরে প্রাণখুলে হাসতে হাসতে বলল, এই শ্রুতি, আমার মা তোকে বাটার খেতে বলেছিল বলে তুই কি করেছিলিস তোর মনে আছে? 

এমন কত কত হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তকে ওরা মুঠোবন্দি করছে তার ইয়ত্তা নেই। সম্পর্কটা প্রেম নয়, ভালোবাসা নয়, নির্ভেজাল বন্ধুত্ব। 

শ্রুতি পরের দিন 'এসো কথা বলির' আসরে বলতে শুরু করলো, বন্ধুত্বেও ব্রেকআপ হয়। আর সেই ব্রেকআপেও রক্তক্ষরণ হয়। সেই রক্তক্ষরণটা কারোর নজরে পড়ে না। 

একমাত্র সাক্ষী থাকে স্কুল, কলেজের ক্যাম্পাসগুলো। তারাই বুঝতে পারে তারকাটা গিটারের সুরবিহীন সুরটা। 

তাই আর দেরি না করে চলে আসুন 'শুভ সকাল' চ্যানেলের 'এসো কথা বলির' আসরে। আমি শ্রুতি প্রতীক্ষায় আছি আপনাদের সঙ্গে গল্প করার জন্য। হয়তো ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে আপনার বা আপনাদের!

স্বর্ণাভ এফ এমটা শুনতে শুনতে বলল, তুই আমার প্রেম নোস, তার থেকে অনেকটা বেশি কিছু। 

রাকেশ ঘোষাল

Comments

Popular posts from this blog

গ্রীষ্মের_ছুটিতে ছাত্রের লেখা খোলা চিঠি