বিশ্বায়ন



আমাদের ওপরের ফ্ল্যাটে এক যুগল ভাড়া থাকে।  দুজনেই সরকারী প্রশাসনিক পদের কর্মী।

সেদিন কাজে বেড়ানোর আগে মাকে বলে গেল- "মাসিমা একটা পার্সেল আসবে। একটু রেখে দেবেন আপনার কাছে ?"

মা বললে- "কি জিনিস গো বাবা ?"
বললে- "গামছা।"

ঘটনাচক্রে সেদিনই পাড়ায় সাইকেল করে একটি ছেলে গামছা, লুঙ্গি, বিক্রি করতে এসেছে দেখলাম। শান্তিপুর, বসিরহাট, মুর্শিদাবাদের, গামছা আছে ওর কাছে। কোয়ালিটি বেশ ভাল। দাম জোড়া 150 টাকা। নিলাম একজোড়া। 

পাশে আরো দুটি পরিবার দাঁড়িয়ে দেখছে। দাম জিজ্ঞাসা করলো প্রথম। তারপর একজন অন্যজনকে বললে- "ছেড়ে দিন দিদি,'অনলাইন' থেকে অর্ডার দেব।"

ছেলেটি আরো 10 টাকা কমিয়ে বললো- "নিয়ে যান দিদি, 140 দেবেন।"
না, তারা আর নিলেন না। 

বাড়িতে গিয়ে অনলাইনে সার্চ মেরে দেখি সেখানে তো 300-400 টাকা দাম, জোড়া। তবুও মানুষ কেনাকাটি করেন সেখান থেকে। 

দিন বদল হচ্ছে। মানুষ পা মেলাচ্ছে কখনো জেনে, কখনো বা অজান্তেই। পৃথিবীময় এখন ক্রেতা। বিশ্ব বাজারে মানুষ এখন দরকারের চেয়ে অদরকারী, দেখনদাড়ির জিনিসের ওপর মন মজিয়েছে। স্টেটাস সিম্বল বড় দায় এ যুগে। যেকোন মূল্যেই তা বলবৎ করতে উদগ্রীব মানুষ।

কিন্তু আমাদের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বিক্রি করা এই মানুষগুলোর কাছ থেকে জিনিস কিনলে তারা কিছুটা উপকৃত হয়, এই আরকি!

বিশ্বায়নের যুগে আমরা যেন ভুলে না যাই তাদের। তারা তো আমাদেরই কাছের মানুষ, তাই না ?

রাকেশ ঘোষাল

Comments

Popular posts from this blog

গ্রীষ্মের_ছুটিতে ছাত্রের লেখা খোলা চিঠি